
সাম্প্রতিক সময়ে অল্প সময়ের ব্যবধানে কয়েকজন বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যুতে পর্তুগালের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে নেমে এসেছে শোক ও উদ্বেগ।
প্রবাস ডেস্ক: পর্তুগালে বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক মৃত্যুর ঘটনায় কমিউনিটিতে উদ্বেগ ও শোক বাড়ছে। সর্বশেষ নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় মারা গেছেন হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা সৈয়দ জুনাইদ আলী।
স্থানীয় কমিউনিটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, পর্তুগালের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে অসুস্থ অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন, বন্ধু ও পর্তুগালে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বিভিন্ন পোস্টেও তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে। পরিচিতজনরা সৈয়দ জুনাইদ আলীকে ভদ্র, নম্র, মিশুক ও হাস্যোজ্জ্বল মানুষ হিসেবে স্মরণ করছেন।
জুনাইদ আলীর মৃত্যুর আগে মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে আরও কয়েকজন বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যুর খবর সামনে আসে। বিভিন্ন প্রকাশ্য প্রতিবেদন ও কমিউনিটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে পর্তুগালে অন্তত কয়েকজন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে আকস্মিক অসুস্থতা, স্ট্রোক, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও দুর্ঘটনার মতো কারণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে বিভিন্ন ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ এক নয়। তাই সামগ্রিকভাবে প্রবাসীদের দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, শারীরিক পরিশ্রম, মানসিক চাপ বা জীবনযাপনের ধরনকে এসব মৃত্যুর সরাসরি কারণ হিসেবে দেখার আগে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা ও সরকারি নথির তথ্য প্রয়োজন।
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো পর্তুগালে বসবাসরত বাংলাদেশিদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে যারা একা বসবাস করেন, দীর্ঘ সময় কাজ করেন কিংবা শারীরিক অসুস্থতার লক্ষণ উপেক্ষা করেন, তাদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পর্যাপ্ত বিশ্রামের বিষয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন কমিউনিটির অনেকে।
একই সঙ্গে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া এবং অসুস্থতার বিষয়টি পরিবারের সদস্য, বন্ধু বা সহকর্মীদের জানিয়ে রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রবাসীদের একাংশ মনে করছেন, বাংলাদেশি কমিউনিটি সংগঠনগুলোর পাশাপাশি দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে প্রবাসীদের স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। জরুরি চিকিৎসা, হাসপাতালসেবা, মানসিক সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় যোগাযোগব্যবস্থা সম্পর্কে সহজ ভাষায় তথ্য সরবরাহ করা গেলে অনেক প্রবাসী উপকৃত হতে পারেন।
পর্তুগালে বাংলাদেশি কমিউনিটির আকার ক্রমেই বাড়ছে। ফলে প্রবাসীদের শুধু কর্মসংস্থান ও অভিবাসনসংক্রান্ত বিষয় নয়, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও জরুরি সহায়তার বিষয়েও কার্যকর কমিউনিটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
সৈয়দ জুনাইদ আলীর মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের পাশাপাশি পর্তুগালপ্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। তার মৃত্যু আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে—প্রবাসজীবনের ব্যস্ততার মধ্যেও নিজের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার প্রতি যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
মন্তব্য করুন