
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সিরিয়া ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে বৈঠকের মাত্র একদিন পরেই দক্ষিণ সিরিয়ায় সামরিক অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। সোমবার (২৪ আগস্ট) একাধিক সামরিক যান নিয়ে দেশটির দারা প্রদেশের একটি এলাকায় ইসরায়েলি সেনাদের প্রবেশের খবর পাওয়া গেছে।
সিরিয়ার আলইখবারিয়া টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বেশ কয়েকটি যান পশ্চিম দারার মারিয়া এলাকায় প্রবেশ করে। এর আগের দিন কুনেইত্রা প্রদেশের আল-রাফিদ শহরেও ইসরায়েলি বাহিনী অভিযান চালিয়ে এক রাখালকে আটক করেছিল বলে জানা গেছে।
দক্ষিণ সিরিয়ার কুনেইত্রা ও দারা অঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর তল্লাশি, আটক এবং সামরিক অবস্থান তৈরির ঘটনা নিয়মিত ঘটছে বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের মধ্যেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা চলছিল।
এর আগে ১৮ আগস্ট ইসরায়েলি বাহিনী সিরিয়ার ইদলিবে অবস্থিত আবু আল-দুহুর সামরিক বিমানঘাঁটিতে একাধিক বিমান হামলা চালায়। হামলায় বিমানঘাঁটির রানওয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা যায়।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এসব ঘটনার মধ্যেই রোববার জর্ডানে সিরিয়া ও ইসরায়েলের প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি এবং ইসরায়েলি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।
সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে সিরিয়ার ভূখণ্ডে ইসরায়েলি হামলা এবং দুই পক্ষের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমানোর বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে। ফলে বৈঠকের পরদিনই দক্ষিণ সিরিয়ায় নতুন করে ইসরায়েলি সামরিক তৎপরতার খবর পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এর আগে গত ২৬ জুলাই সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমদ আল-শারা জানিয়েছিলেন, কয়েকটি দেশের অংশগ্রহণে ইসরায়েলের সঙ্গে একটি নিরাপত্তা সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে তার সরকার। সেই প্রচেষ্টার মধ্যেই মাঠপর্যায়ে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
সিরিয়া-ইসরায়েল উত্তেজনার পেছনে দীর্ঘদিনের ভূখণ্ডগত বিরোধও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর থেকে ইসরায়েল গোলান মালভূমির বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করে আসছে।
২০২৪ সালের শেষ দিকে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর পরিস্থিতি আরও পরিবর্তিত হয়। এরপর ইসরায়েল ১৯৭৪ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিলের ঘোষণা দিয়ে সিরিয়ার বাফার জোনের বিভিন্ন অংশ, মাউন্ট হারমনসহ কয়েকটি এলাকায় সামরিক উপস্থিতি বাড়ায়।
কূটনৈতিক পর্যায়ে উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগ চললেও দক্ষিণ সিরিয়ায় ইসরায়েলি সেনাদের নতুন অভিযান দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এখন আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণে আনা যায়, সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
মন্তব্য করুন