
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | নেক্সা বার্তা
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য এফ-১ শিক্ষার্থী ভিসা নিয়ে যাওয়ার পরও শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়। ভিসার শর্ত ভঙ্গ করলে শুধু বর্তমান বৈধ অবস্থানই ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে না, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হতে পারে।
ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস শনিবার (২২ আগস্ট) তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শিক্ষার্থী ভিসার শর্ত মেনে চলার বিষয়ে সতর্ক করেছে। দূতাবাসের বার্তায় বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষার্থী পড়াশোনা ছেড়ে দিলে, ক্লাসে অনুপস্থিত থাকলে কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে না জানিয়ে নিজের অধ্যয়ন কর্মসূচি থেকে সরে গেলে তার শিক্ষার্থী ভিসা বাতিল হতে পারে।
এফ-১ ভিসার মূল উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রে অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করা। তাই যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর পড়াশোনা সম্পূর্ণভাবে ছেড়ে দেওয়া বা অনুমোদিত শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ না নেওয়া ভিসার শর্ত লঙ্ঘনের কারণ হতে পারে।
একইভাবে নিয়মিত ক্লাসে অংশ না নেওয়া বা প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত একাডেমিক কার্যক্রম থেকে দূরে সরে যাওয়াও শিক্ষার্থীর বৈধ স্ট্যাটাসের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
শিক্ষার্থীর পড়াশোনার বিষয়, প্রোগ্রাম, প্রতিষ্ঠান কিংবা একাডেমিক অবস্থার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে নিজের মতো করে স্টাডি প্রোগ্রাম পরিবর্তন করলে সমস্যা তৈরি হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্ট্যাটাস ও সংশ্লিষ্ট তথ্য ব্যবস্থাপনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের ভূমিকা রয়েছে। তাই কোনো পরিবর্তনের আগে প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করাই নিরাপদ।
দূতাবাসের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, ভিসার শর্ত না মানলে বর্তমান শিক্ষার্থী ভিসা বাতিল হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়ার যোগ্যতাতেও সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে শুধু ভিসার মেয়াদ থাকলেই হবে না; ভিসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিয়ম ও শিক্ষার্থী হিসেবে বৈধ অবস্থান বজায় রাখাও জরুরি।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাবিষয়ক কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও বিনিময় কর্মসূচির অংশগ্রহণকারীদের অবস্থানের সময়সীমা নিয়ে নতুন নিয়মের প্রস্তাব ও নীতিগত পরিবর্তন নিয়ে কাজ করেছে। তবে এ ধরনের নিয়মের ক্ষেত্রে ভিসার মেয়াদ, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমোদিত সময় এবং বৈধ স্ট্যাটাস—এই তিনটি বিষয় এক নয়। ফলে শিক্ষার্থীদের শুধু ভিসার মেয়াদ দেখেই যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সময় নির্ধারণ করা উচিত নয়।
যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—নিজের শিক্ষা কার্যক্রম সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং কোনো পরিবর্তন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা। ক্লাসে নিয়মিত অংশগ্রহণ, অনুমোদিত একাডেমিক কার্যক্রম বজায় রাখা এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে তথ্য দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে পড়াশোনা বন্ধ করা, প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন, প্রোগ্রাম পরিবর্তন বা দীর্ঘ সময়ের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিয়ম জেনে নেওয়া উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থী হিসেবে থাকা মানে শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া নয়; একই সঙ্গে অভিবাসন ও শিক্ষার্থী-স্ট্যাটাসের নিয়মও মেনে চলা। তাই ভিসা পাওয়ার পরও নিয়মকানুন সম্পর্কে সচেতন থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
সূত্র: ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস; যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ
মন্তব্য করুন