নিজস্ব প্রতিবেদক
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘মায়ের কোলে সন্তানের লাশ’ তুলে দেওয়ার চেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা তাঁর মনে পড়ে না। আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুর সময়কার পরিস্থিতি স্মরণ করে তিনি বলেন, ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও বিয়োগান্তক।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে আরাফাত রহমান কোকোর ৫৭তম জন্মদিন উপলক্ষে তাঁর কবরে ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন রিজভী।
রিজভী বলেন, আরাফাত রহমান কোকো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তিনি ছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ ছেলে।
কোকোর মরদেহ দেশে আসার সময়ের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, সে সময় খালেদা জিয়া বন্দি অবস্থায় ছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই পরিস্থিতিতে মায়ের কাছে সন্তানের মরদেহ তুলে দেওয়ার ঘটনা ছিল অত্যন্ত মর্মান্তিক।
রিজভী আরও অভিযোগ করেন, একটি পরিবারকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল ও তাদের জনপ্রিয়তা নষ্ট করার জন্য তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছিল। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসার রাজনীতির অভিযোগও করেন।
বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, ১৯৯০ সালের গণআন্দোলন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়েও কথা বলেন রিজভী। তিনি দাবি করেন, এসব আন্দোলন বাংলাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় এবং কোনো একটি ঘটনাকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিএনপির ভূমিকার কথা তুলে ধরে রিজভী দাবি করেন, ওই আন্দোলনে বিএনপির ছাত্র, শ্রমিক ও অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রায় ৪০০ জন নিহত হয়েছেন। তিনি বলেন, ইতিহাস থেকে কোনো পক্ষের অবদান মুছে ফেলার চেষ্টা করা উচিত নয়।
রিজভী আরও বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণআন্দোলন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান—প্রতিটি ঘটনাকেই যথাযথ সম্মান দিতে হবে। একই সঙ্গে এসব আন্দোলনে যারা আত্মত্যাগ করেছেন, তাঁদেরও সম্মান জানানোর আহ্বান জানান তিনি।
আরাফাত রহমান কোকোর ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে ভূমিকার কথাও স্মরণ করেন রিজভী। তাঁর মতে, দেশের ক্রীড়াবিদদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুযোগ ও কাঠামো তৈরির বিষয়ে কোকোর আগ্রহ ছিল।
কোকোর রুহের মাগফিরাত কামনা করে রিজভী বলেন, আল্লাহ যেন তাঁকে বেহেশত নসিব করেন।
কর্মসূচিতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্যসচিব মোস্তফা জামান, সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীরসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক ইসরাফিল খসরু উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন