গ্রেফতার আব্দুস সাত্তার কালাই উপজেলার বহুতি গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বার খলিফার ছেলে। তিনি মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের একজন।
মামলার নথি অনুযায়ী, আর্থিকভাবে অসচ্ছল গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ এলাকার মন্টু মিয়াকে কিডনি দেওয়ার বিনিময়ে ১০ লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। গত জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে তাকে অগ্রিম হিসেবে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। পরে তাকে নেপালের একটি হাসপাতালে নিয়ে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একটি কিডনি নেওয়া হয়।
অস্ত্রোপচার শেষে দেশে ফেরার পর চুক্তি অনুযায়ী বাকি ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন মন্টু মিয়া। তবে সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট অন্যদের কাছ থেকে টাকা না পেয়ে তিনি ক্ষুব্ধ হন। পরে গত ১৩ জুন জয়পুরহাট আমলি আদালতে মামলা দায়ের করেন তিনি।
মামলায় বগুড়া সদর উপজেলার নিশিন্দারা গ্রামের সাব্বির আহমেদ, শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক মল্লিকপাড়া গ্রামের সুমন আলী, কালাই উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের আব্দুল মান্নান ও সাইদুর রহমান, লওনা গ্রামের আব্দুস সাত্তার এবং নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ছোট হোসেনপুর রাজাগঞ্জ এলাকার তারেক আজম ওরফে বাবলু চৌধুরীকে আসামি করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কালাই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দরিদ্র, ঋণগ্রস্ত ও আর্থিক সংকটে থাকা মানুষদের কিডনি বিক্রির জন্য প্রলুব্ধ করে আসছে। প্রশাসনের নজরদারি বাড়ায় কয়েক বছর তাদের তৎপরতা কিছুটা কম থাকলেও সম্প্রতি আবারও এ ধরনের কার্যক্রম বেড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়ভাবে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার বেশ কিছু গ্রাম ও মহল্লার নাম কিডনি কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আলোচনায় এসেছে। এর মধ্যে মাত্রাই ইউনিয়নের ভেরেন্ডি, উলিপুর, সাতার, কুসুমসাড়া, অনিহার, ভাউজাপাতার, পাইকশ্বর ও ইন্দাহার; উদয়পুর ইউনিয়নের তালোড়া-বাইগুনি, বহুতি, মোহাইল, থল, বাগইল, মাস্তর, জয়পুর বহুতি, নওয়ানা বহুতি, দুর্গাপুর, উত্তর তেলিহার, ভুষা, কাশিপুর, দুধাইল, বিনইল ও পূর্বকৃষ্টপুর উল্লেখযোগ্য।
এ ছাড়া আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নের রাঘবপুর, বোড়াই, হারুঞ্জা, নওপাড়া ও বালাইট; কালাই পৌরসভার আঁওড়া, থুপসারা, সিতাহার ও দুরুঞ্জ-নয়াপাড়া; জিন্দারপুর ইউনিয়নের এলতা, ইমামপুর, বেগুনগ্রাম, করিমপুর ও হাজিপুর-ঘাটুরিয়া এবং পুনট ইউনিয়নের জালাইগাড়ী, পাঁচগ্রাম, জগডুম্বর ও শান্তিনগর এলাকাতেও এ চক্রের তৎপরতার অভিযোগ রয়েছে।
আইন অনুযায়ী, মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন, ১৯৯৯-এর ৯ ধারায় মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কেনাবেচা নিষিদ্ধ। এ ধরনের অপরাধের জন্য কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
কালাই থানার ওসি (তদন্ত) দীপেন্দ্র নাথ সিংহ জানান, আব্দুস সাত্তারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে।
মন্তব্য করুন