বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দলকে ঘিরে কোচ পরিবর্তনের গুঞ্জনের মধ্যেই বুধবার সকালে মাঠে দেখা গেল প্রধান কোচ জেরার্ড জোন্সকে। কমলাপুর স্টেডিয়ামে তার নেতৃত্বেই দলের অনুশীলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সেশনে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশু।
জোন্সকে ঘিরে গতকাল থেকেই নানা ধরনের আলোচনা চলছে। কোথাও তার বরখাস্তের খবর, আবার কোথাও সাময়িক অব্যাহতির কথা ছড়িয়েছে। তবে এসব গুঞ্জনের মধ্যেও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন এখন পর্যন্ত জোন্স ও মিশুকে সঙ্গে রেখেই দলকে উজবেকিস্তানে পাঠানোর পরিকল্পনায় রয়েছে।
অনুশীলনে মিশুর উপস্থিতি থাকলেও গত কয়েক দিনের মতো তাকে খুব বেশি সক্রিয় দেখা যায়নি। জোন্সের নির্দেশনা অনুযায়ীই সহকারী কোচ দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানা গেছে।
আগামীকাল রাতে উজবেকিস্তানের উদ্দেশে দেশ ছাড়ার কথা বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের। সাধারণত বিদেশ সফরের আগে সংবাদ সম্মেলন করে কোচ ও দলের পরিকল্পনা জানানো হয়। কিন্তু জোন্সকে নিয়ে চলমান পরিস্থিতির কারণে সংবাদ সম্মেলন নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। এ কারণেই গতকাল নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলন ডেকেও পরে তা বাতিল করা হয়।
দুই বছরের চুক্তিতে বাংলাদেশ যুব দলের কোচের দায়িত্ব পাওয়া জোন্স জুলাইয়ে কাজ শুরু করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সক্রিয়তা ছিল চোখে পড়ার মতো। আগস্টের শুরুতে বেতন ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও তিনি প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছিলেন। পরে ঢাকায় এসে সহকারী কোচ মিশুর সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনায় জড়িয়ে পড়েন ব্রিটিশ এই কোচ।
জোন্সের আচরণে বাফুফের কর্মকর্তারাও সন্তুষ্ট নন বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে মিশুর কোনো ভুল বা দায় রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে ফেডারেশনের ডেভেলপমেন্ট কমিটি। অর্থাৎ কোচিং স্টাফের অভ্যন্তরীণ বিরোধ এখন দলের প্রস্তুতিতেও বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
এর মধ্যেই সামনে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্ব। ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক উজবেকিস্তান, ভারত ও সিরিয়া। আগামী ৩১ আগস্ট উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশের অভিযান শুরু হবে। এরপর ৩ সেপ্টেম্বর সিরিয়া এবং ৬ সেপ্টেম্বর ভারতের বিপক্ষে খেলবে দলটি।
বাছাইপর্বের আট গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দল এবং সেরা সাত রানার্স-আপ মূল পর্বে জায়গা পাবে। ফলে বাংলাদেশ গ্রুপসেরা হতে না পারলেও ভালো ফল করে রানার্স-আপদের মধ্যে অবস্থান তৈরি করতে পারলে মূল পর্বে খেলার সুযোগ থাকবে।
সম্প্রতি সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়ন হওয়া বাংলাদেশ দলকে ঘিরে তাই প্রত্যাশাও রয়েছে। প্রবাসী ফুটবলার অ্যাডাম আব্বাসের অন্তর্ভুক্তি দলকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিযোগিতার আগে কোচিং স্টাফের দ্বন্দ্ব ও অনিশ্চয়তা দলের প্রস্তুতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
মন্তব্য করুন