
বিশ্বকাপ ফাইনালের পর সংঘর্ষের ঘটনায় লিয়ান্দ্রো পারদেসকে ১০ ম্যাচ নিষিদ্ধ করায় ২০১৪ সালে লুইস সুয়ারেজের ৯ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার নজির তুলে ধরে আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।
স্পোর্টস ডেস্ক: ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পর মাঠে সংঘর্ষের ঘটনায় আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারদেসকে ১০ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। একই সঙ্গে তাকে ৯০ হাজার ডলার জরিমানাও করা হয়েছে। তবে ফিফার এই শাস্তিকে অতিরিক্ত বলে মনে করছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। শাস্তি কমাতে আপিল করার প্রস্তুতিও নিচ্ছে তারা।
ফাইনাল শেষে স্পেনের এরিক গার্সিয়ার গলা চেপে ধরা এবং গাভিকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় পারদেসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি। শাস্তির মেয়াদ ১০ ম্যাচ হওয়ায় এএফএর পক্ষ থেকে অতীতের বিভিন্ন ঘটনার নজির সামনে আনা হয়েছে।
এএফএর আইনি উপদেষ্টা আন্দ্রেস পাটোন উরিচ বিশেষভাবে তুলনা করেছেন ২০১৪ বিশ্বকাপের একটি বহুল আলোচিত ঘটনার সঙ্গে। ব্রাজিল বিশ্বকাপে ইতালির ডিফেন্ডার জর্জিও কিয়েল্লিনিকে কামড় দিয়েছিলেন উরুগুয়ের তারকা লুইস সুয়ারেজ। সেই ঘটনায় ফিফা তাকে নয় ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল।
পারদেসের ঘটনায় ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কেন দেওয়া হলো—এ প্রশ্ন তুলেছেন উরিচ। তার মতে, প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে কামড় দেওয়ার মতো গুরুতর ঘটনার ক্ষেত্রেও যদি নয় ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়, তাহলে পারদেসের শাস্তির মাত্রা পুনর্বিবেচনা করা উচিত।
ডি স্পোর্টস রেডিওকে উরিচ বলেন, পারদেসের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে তারা ফিফার সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করেছেন। তাদের ধারণা, ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করলে শাস্তি আরও কম হওয়া উচিত ছিল। বিশেষ করে পারদেস ও নাহুয়েল মোলিনার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার মাত্রাকে অতিরিক্ত বলে মনে করছে এএফএ।
এএফএর পক্ষ থেকে আরও একটি ঘটনার নজির তুলে ধরা হয়েছে। উরিচের দাবি, এক ইউরোপীয় ফুটবলার নাৎসি প্রতীক প্রদর্শনের ঘটনায় ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছিলেন। এসব উদাহরণ বিবেচনায় নিয়ে পারদেসের শাস্তি পুনর্বিবেচনার দাবি জানাবে আর্জেন্টিনা।
ফাইনাল-পরবর্তী সংঘর্ষে শুধু পারদেসই শাস্তি পাননি। আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলিনাকে সাত ম্যাচ নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ৯০ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে। থিয়াগো আলমাদা পেয়েছেন এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ও ৩০ হাজার ডলার জরিমানা। আর্জেন্টিনার কোচিং স্টাফের সদস্য রবার্তো আয়ালাকে তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ এবং ৩০ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে।
অন্যদিকে একই ঘটনার জন্য স্পেনের গাভিকেও এক ম্যাচ নিষিদ্ধ করেছে ফিফা এবং তাকে ৩০ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে।
বিশ্বকাপের ফাইনালের ফল নিয়ে হতাশার পাশাপাশি ম্যাচ-পরবর্তী ঘটনাগুলোও এখন আর্জেন্টিনার জন্য বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। এএফএর আপিলের পর ফিফা শাস্তির মেয়াদ কমায় কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
সূত্র: ডি স্পোর্টস রেডিও, এএফএ
প্রকাশনা: Nexa Barta
মন্তব্য করুন