অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট জয় বাংলাদেশ দলের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে। ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টে স্বাগতিকদের ৯ উইকেটে হারানোর পর এবার দ্বিতীয় ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছে টাইগাররা। তবে বাংলাদেশের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স মনে করছেন, পরের টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে আরও কঠিন প্রতিপক্ষ হিসেবে পাওয়া যাবে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ডারউইনের জয় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সিমন্স জানান, একটি টেস্ট ম্যাচ জয়ের পর দলের আত্মবিশ্বাস স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়। তার মতে, বাংলাদেশ পুরো ম্যাচে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে এবং এমন সাফল্য ক্রিকেটারদের মানসিকভাবে আরও দৃঢ় করবে।
ডারউইনের জয়কে নিজের কোচিং ক্যারিয়ারের সেরা টেস্ট জয় হিসেবেও উল্লেখ করেন বাংলাদেশের এই প্রধান কোচ। সিমন্সের ভাষায়, অন্য সংস্করণে তার কিছু বড় জয় থাকলেও টেস্ট ক্রিকেটে এমন সাফল্যই তার কাছে সবচেয়ে মূল্যবান।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারের পর বাংলাদেশ দলের প্রস্তুতি ও অনুশীলনে কোনো বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়নি বলেও জানান তিনি। তার মতে, তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ থেকে শুরু করে টেস্টের আগে শেষ অনুশীলন—সব ক্ষেত্রেই পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করেছে দল। প্রস্তুতি ম্যাচে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হওয়ার মতো ব্যর্থতা এলেও সেটিকে নিয়ে দলের কাজের ধরন বদলানো হয়নি।
সিমন্স মনে করেন, নিয়মিত অনুশীলন ও ক্রিকেটারদের উন্নতির মানসিকতাই শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে সাফল্য এনে দিয়েছে। তার বিশ্বাস ছিল, ধারাবাহিকভাবে পরিশ্রম করলে কোনো এক সময় তার ফল পাওয়া যাবেই।
তবে ডারউইনের জয় নিয়ে অতিরিক্ত আত্মতুষ্টিতে ভুগতে চান না বাংলাদেশের কোচ। বরং দ্বিতীয় টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার কাছ থেকে আরও কঠিন লড়াইয়ের প্রত্যাশা করছেন তিনি।
সিমন্স বলেন, অস্ট্রেলিয়া পরের ম্যাচে আরও শক্তিশালীভাবে ঘুরে দাঁড়াবে। তাই বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের নিজেদের বর্তমান পারফরম্যান্সের মান ধরে রাখার পাশাপাশি আরও উন্নতি করার চেষ্টা করতে হবে।
তার মতে, অস্ট্রেলিয়া নিজেদের খেলার ধরনেও পরিবর্তন আনতে পারে। ফলে প্রথম টেস্টের সাফল্যকে ভিত্তি করে বাংলাদেশকে পরের ম্যাচে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামতে হবে।
ডারউইনের জয়ের ফলে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। এখন ম্যাকাইয়ের দ্বিতীয় টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য সিরিজে সমতা ফেরানো। অন্যদিকে বাংলাদেশের সামনে রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট সিরিজ জয়ের ঐতিহাসিক সুযোগ।
মন্তব্য করুন