
২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা থেকে বঞ্চিত হয়েছে আর্জেন্টিনা। তবে ম্যাচের ফলাফলের চেয়েও ফাইনালের পর আর্জেন্টিনা দলকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ নিয়ে আলোচনা হয়েছে বেশি। এবার সেইসব জল্পনা-কল্পনার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)।
ফাইনালের এক মাস পূর্তি উপলক্ষে বুধবার (১৯ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিশেষ ভিডিও প্রকাশ করে এএফএ। সেখানে খেলোয়াড়দের প্রশংসা ও ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া হয়েছে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তা। ভিডিওটির বর্ণনায় আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপযাত্রা এবং ফাইনালে ওঠার পথও তুলে ধরা হয়।
ভিডিওর শুরুতেই বলা হয়, ‘এক মাস আগে কিছু একটা ঘটেছিল।’ এরপর আর্জেন্টিনার সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানো এবং টুর্নামেন্টে একের পর এক কঠিন পরিস্থিতি পেরিয়ে ফাইনালে পৌঁছানোর বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
ফাইনালের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে নানা ধরনের সন্দেহ ও তত্ত্ব ছড়িয়েছিল, ভিডিওর বক্তব্যে সেগুলোরও ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এএফএর ভাষ্য, নানা ধরনের আর্জেন্টিনাবিরোধী প্রচারণা ও প্রতিকূলতার মধ্যেও দলটি নিজেদের সামর্থ্য দিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছিল। শেষ পর্যন্ত শিরোপা জিততে না পারলেও খেলোয়াড়রা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেছেন—এমন বার্তাই তুলে ধরা হয় ভিডিওতে।
ভিডিওর শেষদিকে অধিনায়ক লিওনেল মেসির একটি আবেগঘন দৃশ্য যুক্ত করা হয়েছে। রানার্সআপের পদক নেওয়ার পর মেসির চোখের পানি ফুটে ওঠে সেই দৃশ্যে। এর সঙ্গে বলা হয়, জয় কিংবা পরাজয়—দুই পরিস্থিতিতেই কখনো হাল ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়।
ফাইনালের পর আর্জেন্টিনা দলকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক দাবি ছড়িয়ে পড়ে। কেউ কেউ ম্যাচের আগে খেলোয়াড়দের আচরণ, মেটলাইফ স্টেডিয়ামে দলের উপস্থিতি এবং গ্যালারিতে আর্জেন্টিনার সাবেক তারকাদের অনুপস্থিতিকে নানা সন্দেহের সঙ্গে যুক্ত করেন। এমনকি ম্যাচের আগে ড্রেসিংরুমে মেসি কী বলেছিলেন, তা নিয়েও বিভিন্ন দাবি সামনে আসে।
এ ছাড়া এনজো ফার্নান্দেজের হলুদ কার্ড পাওয়া নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ব্যাখ্যা ছড়িয়ে পড়ে। এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা একত্র করে একটি অংশের সমর্থকরা ফাইনালকে ঘিরে ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব দাঁড় করান।
তবে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়, কোচ এবং ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা শুরু থেকেই এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছেন। এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়াও এর আগে সমর্থকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন গুজব ও অপপ্রচারে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
তাপিয়ার বক্তব্য ছিল, এসব প্রচারণার উদ্দেশ্য আর্জেন্টিনার ফুটবলকে বিভক্ত ও অস্থিতিশীল করা। তার মতে, স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে আর্জেন্টিনা হেরেছে কারণ প্রতিপক্ষ সেদিন ভালো ফুটবল খেলেছে। তাই পরাজয়ের জন্য কোনো অজুহাত খোঁজার প্রয়োজন নেই।
এএফএর নতুন ভিডিওতেও মূলত একই বার্তা তুলে ধরা হয়েছে—ফাইনালে হারলেও আর্জেন্টিনা নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়ে লড়েছে। শিরোপা এবার হাতছাড়া হলেও দলটির লড়াই, ঐক্য ও আত্মবিশ্বাস ধরে রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ফলে ফাইনালের এক মাস পর প্রকাশিত এএফএর ভিডিওকে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিতর্কিত তত্ত্বগুলোর পরোক্ষ জবাব হিসেবেই দেখছেন। তবে সংস্থাটি কোনো নির্দিষ্ট ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্বের’ বিস্তারিত খণ্ডন না করে পুরো বিষয়টিকে আর্জেন্টিনার লড়াই ও পরাজয় মেনে নেওয়ার দৃষ্টিকোণ থেকেই তুলে ধরেছে।
মন্তব্য করুন