সুইজারল্যান্ডে ফের মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান, আলোচনায় প্রাধান্য পাচ্ছে লেবানন সংকট
ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য প্রাথমিক সমঝোতা চুক্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনা করতে সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এর আগে শনিবার রাতে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলও দেশটিতে আসে।
রোববার (২২ জুন) যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন দফার সরাসরি বৈঠক শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, এবারের আলোচনায় লেবাননের পরিস্থিতি এবং ইসরাইল-হিজবুল্লাহ সংঘাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে একটি জরুরি অধিবেশনও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকের শুরুতেই লেবানন প্রসঙ্গটি আলোচনায় তোলা হবে। তবে ওই বিশেষ অধিবেশনে ইসরাইল কিংবা হিজবুল্লাহর কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন না।
সুইজারল্যান্ড সফরের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জেডি ভ্যান্স বলেন, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং লেবাননে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতির প্রত্যাশা করছেন তিনি।
অন্যদিকে, শনিবার সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এক ইরানি কর্মকর্তা জানান, লেবাননের চলমান সংঘাতের অবসান ঘটানোই তাদের প্রতিনিধি দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার।
বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননে সাম্প্রতিক উত্তেজনা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। এদিকে ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলের হামলার প্রতিক্রিয়ায় তারা পুনরায় হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে।
তেহরানের অভিযোগ, দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলের সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী হামলা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ কারণেই হরমুজ প্রণালি নিয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জলপথে নৌ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে ৫৫টি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করেছে এবং এর মাধ্যমে বিশ্ববাজারে ১ কোটি ৭০ লাখ ব্যারেলেরও বেশি তেল পরিবহন করা হয়েছে।