যন্তর মন্তরে হামলার ছক ভেস্তে দেওয়ার দাবি পাঞ্জাব পুলিশের, গ্রেপ্তার ৯
ভারতের পাঞ্জাব পুলিশ দাবি করেছে, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-সমর্থিত দুটি আন্তঃসীমান্ত জঙ্গি নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তাদের অভিযোগ, গত মাসে দিল্লির যন্তর মন্তরে চলমান তরুণদের আন্দোলনের সময় হামলার পরিকল্পনা ছিল এসব নেটওয়ার্কের। তবে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার পাঞ্জাব পুলিশ জানায়, এ অভিযানে চার কিশোরসহ মোট নয়জন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে তিনটি পিস্তল, চারটি পেট্রলবোমা এবং নয় রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করার দাবি করেছে পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বিদেশে অবস্থানকারী কথিত জঙ্গি হ্যান্ডলাররা স্থানীয় সদস্যদের নির্দেশনা দিতেন এবং নতুন সদস্য সংগ্রহের দায়িত্বও তাদের ওপর অর্পণ করা হয়েছিল।
পাঞ্জাব পুলিশের মহাপরিচালক গৌরব যাদব বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে আইএসআই-সমর্থিত দুটি নেটওয়ার্ক শনাক্ত ও ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনকে দিল্লির যন্তর মন্তরে হামলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
পুলিশ জানায়, প্রথম নেটওয়ার্কটির সন্ধান পাওয়া যায় রাজাসানসি এলাকায়। সেখান থেকে সুখমান সিং ও তার তিন অপ্রাপ্তবয়স্ক সহযোগীকে আটক করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে সুখমান সিং পাকিস্তানে অবস্থানকারী এক আইএসআই-সংযুক্ত হ্যান্ডলারের সঙ্গে যোগাযোগের কথা স্বীকার করেছে বলে দাবি পুলিশের। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার উদ্দেশ্যে সে সহযোগীদের নিয়ে দিল্লিতেও গিয়েছিল। তবে যন্তর মন্তরে কঠোর নিরাপত্তা থাকায় তারা হামলা চালাতে পারেনি এবং পরে পাঞ্জাবে ফিরে আসে।
পুলিশ আরও দাবি করেছে, হামলার জন্য উত্তর প্রদেশের এক সহযোগীর মাধ্যমে অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে সেই পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে বলে পুলিশের দাবি, পাকিস্তানভিত্তিক গ্যাংস্টার ও সন্ত্রাসী শাহজাদ ভাট্টি এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এর আগে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান এবং ঝাড়খণ্ড থেকে গ্রেপ্তার হওয়া মোহাম্মদ হামিম মণ্ডল ও অর্পিতা সরকারের সঙ্গেও একই নেটওয়ার্কের যোগাযোগ ছিল বলে তদন্তকারীরা দাবি করেছেন।
এদিকে রেললাইনের পাশে সন্দেহজনক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের তদন্ত করতে গিয়ে দ্বিতীয় নেটওয়ার্কটির সন্ধান পাওয়া যায়। পাঞ্জাব পুলিশের দাবি, এসব ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও বিদেশে থাকা হ্যান্ডলারদের কাছে পাঠানো হতো। পাশাপাশি পাঞ্জাব পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনা ও সদস্যদের ওপর নজরদারির দায়িত্বও অভিযুক্তদের দেওয়া হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন তারন তারনের বংশ কুমার, আনমোল সিং ওরফে সাহিল, অমৃতসরের হারমান সিং ওরফে হাম্মু, সুখদেব সিং এবং সুখমান সিং। এছাড়া আটক অন্য চারজন অপ্রাপ্তবয়স্ক বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অমৃতসরের পুলিশ কমিশনার গুরপ্রীত সিং ভুল্লার বলেন, নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে প্রথমে দুইজনকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে একটি অবৈধ .৩২ বোরের দেশি পিস্তল ও তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, তদন্তে জানা গেছে, রেললাইনের পাশে নজরদারি ক্যামেরা বসানোর অর্থ লেনদেন ডিজিটাল মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছিল। এ ঘটনায় জেলে থাকা দুই আসামিকে প্রোডাকশন ওয়ারেন্টে এনে মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
দ্রষ্টব্য: এ ঘটনায় যন্তর মন্তরে হামলার পরিকল্পনা, আইএসআই-সংযোগ এবং অভিযুক্তদের ভূমিকা সম্পর্কিত তথ্যগুলো পাঞ্জাব পুলিশের দাবি ও তদন্তের ভিত্তিতে জানানো হয়েছে। মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া এখনও চলমান।