প্রবাসে দুই পা হারানো দন্ডিত আসামি গৌরনদীর রফিকুলকে কারাগারে প্রেরণ
সৌদি আরবে কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই পা হারানো মাদক মামলায় দন্ডিত আসামি রফিকুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে বরিশালের একটি আদালত। মঙ্গলবার (৩০ জুন) আসামিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বরিশালের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির করে পুলিশ।
এসময় আসামির পক্ষে জামিন আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে বিচারক পলি আফরোজ তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রেজাউল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন। দন্ডপ্রাপ্ত রফিকুল ইসলাম সরদার (৩৫) গৌরনদী উপজেলার ভীমেরপাড় গ্রামের ফারুক সরদারের ছেলে।
আদালত ও মামলার বরাতে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ৩০ জুলাই ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে উজিরপুর উপজেলার বামরাইল বন্দরের এবি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় রফিকুল ইসলাম সরদারসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রফিকুলের কাছ থেকে ৬০টি ইয়াবা জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় উজিরপুর মডেল থানা পুলিশ দুইজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। রফিকুল পরে জামিন নিয়ে পলাতক হন। ২০২৫ সালের ৩০ জুলাই রফিকুলের অনুপস্থিতিতে আদালত তাকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদন্ডের রায় ঘোষণা করেন।
মঙ্গলবার রাতে আসামি রফিকুলের চাচা জাকির সরদার বলেন, মামলা চলাকালে রফিকুল সৌদি আরবে যান। সেখানে জানুয়ারি মাসে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার পর তার দুটি পা কেটে ফেলতে হয়েছে। এছাড়া তার হাত এবং শরীরের পেছনে মাথা থেকে পিঠ পর্যন্ত ঝলসে যায়।
তিনি আরও বলেন, রফিকুল সৌদি আরবে চিকিৎসা শেষে গত মাসে দেশে ফিরে এসেছে। দুইদিন আগে বাসায় পুলিশ আসে। তখন তার এই অবস্থা দেখে আমাদের নিয়ে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেয় পুলিশ। তার এমন শারীরিক অবস্থায় জামিন পাবে এমন আশায় আদালতে আত্মসমর্পণ করানো হয়। কিন্তু বিচারক জামিন না দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।
রফিকুলের আরেক চাচা তরিকুল সরদার বলেন, ওর সেবা করতে চারজন লোক প্রয়োজন। এছাড়া ওর পায়ে ইনফেকশন হয়েছে। একা কিছু করতে পারে না। এই অবস্থায় কারাগারে রফিকুলকে না খেয়ে ও সংক্রমণে আরও গুরুতর অবস্থা হয়ে যাবে।
রফিকুলের আইনজীবী একরামুজ্জামান জয় বলেন, রফিকুল চলাচল অক্ষম একজন মানুষ। এরকম একজন ব্যক্তির পালিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমরা আবেদন করেছিলাম যে, একটা অন্তর্বর্তীকালীন জামিন বিবেচনা করার জন্য। কিন্তু আদালত সেটা বিবেচনা করেনি। তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। আমরা উচ্চ আদালতে যাবো। সেখানে হয়তো ন্যায়বিচার পাবো।