‘বিপ্লবের দুই বছর পরও মানুষের জীবনে স্বস্তি ফেরেনি’—নাহিদ ইসলাম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ৫ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় দিন। তার মতে, এ দিনটি দেশের মানুষের দীর্ঘ সংগ্রাম, আত্মত্যাগ এবং বিজয়ের ধারাবাহিকতার প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
বুধবার (৫ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, পলাশীর যুদ্ধের পর থেকে এ অঞ্চলের মানুষ স্বাধীনতা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে সংগ্রাম করে এসেছে। তিতুমীরের আন্দোলন, হাজী শরীয়তুল্লাহর ফরায়েজি আন্দোলন, হাবিলদার রজব আলীর বিদ্রোহ এবং লাহোর প্রস্তাবকে তিনি সেই দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান এবং পরে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেও জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি। তার ভাষ্য, রাজনৈতিক নেতৃত্বের ব্যর্থতার কারণে স্বাধীনতার অনেক স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়নি।
বার্তায় তিনি আরও দাবি করেন, পরবর্তী সময়ে দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক কাঠামো বারবার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। তার অভিযোগ, এক-এগারোর পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং পরবর্তী সময়ের শাসনব্যবস্থায় গণতন্ত্র, সুশাসন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমনে শক্তি প্রয়োগের ঘটনার পর ছাত্র-জনতার সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। তার দাবি, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা সেই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহের সৃষ্টি হয়।
তবে তিনি বলেন, সেই আন্দোলনের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও প্রত্যাশিত পরিবর্তন বাস্তবায়িত হয়নি। তার মতে, রাজনৈতিক নেতৃত্বের মতপার্থক্য ও সহযোগিতার অভাবে শহীদদের স্বপ্ন পূরণ হয়নি এবং কাঙ্ক্ষিত সংস্কারও বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।
এনসিপি আহ্বায়কের দাবি, বিপ্লবের দুই বছর পরও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি ফিরে আসেনি। তিনি সরকারের দলীয়করণ, সংস্কার বাস্তবায়নে অনীহা, অতিরিক্ত ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার সমালোচনা করেন। তার ভাষায়, এসব কারণে দেশ আবারও একটি সংকটপূর্ণ পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, গণভোটে জনগণের দেওয়া রায়ের প্রতি সম্মান দেখিয়ে দ্রুত সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ রাষ্ট্রের সব পর্যায়ে দখলদারিত্ব ও সন্ত্রাসের রাজনীতি বন্ধ করে গণতান্ত্রিক সহাবস্থান নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান তিনি।
এছাড়া তিনি ২০২৪ সালের ঘটনাসহ সব গণহত্যার অভিযোগের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বার্তার শেষাংশে নাহিদ ইসলাম বলেন, শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ ওয়াসিম, শহীদ মুগ্ধ, শহীদ হৃদয় তরুয়াসহ আন্দোলনে নিহতদের আত্মত্যাগ দেশের মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রেখে গেছে। সেই দায়িত্ব পালনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে অন্যায়, অবিচার ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার এবং ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।