বিশ্ব ফুটবলে অনেক খেলোয়াড় ব্যক্তিগত বিশ্বাস কিংবা নীতিগত কারণে নির্দিষ্ট ধরনের বাণিজ্যিক প্রচারণা থেকে নিজেদের দূরে রাখেন। ২০২৬ বিশ্বকাপেও সেই তালিকায় নতুন করে আলোচনায় এসেছেন ফ্রান্সের তারকা ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপে। অ্যালকোহল, জুয়া এবং স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ পণ্যের বিজ্ঞাপন থেকে দূরে থাকার তার দীর্ঘদিনের অবস্থান আবারও নজর কেড়েছে ফুটবলপ্রেমীদের।
বিভিন্ন সময় এমবাপে জানিয়েছেন, তিনি এমন কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রচারণায় অংশ নিতে চান না, যা তরুণদের জন্য নেতিবাচক বার্তা বহন করতে পারে। লাভজনক প্রস্তাব এলেও তিনি অ্যালকোহল ও জুয়ার বিজ্ঞাপন গ্রহণ করেননি। এর পরিবর্তে স্বাস্থ্যকর জীবনধারা, ইতিবাচক সামাজিক উদ্যোগ এবং দায়িত্বশীল বার্তা তুলে ধরে—এমন ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করতেই তিনি বেশি আগ্রহী।
নিজের ইমেজ রাইটস ও বাণিজ্যিক চুক্তির ক্ষেত্রেও পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখেন এই ফরাসি ফুটবলার। ফলে কোন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করবেন এবং কোন ধরনের প্রচারণা এড়িয়ে চলবেন, সে সিদ্ধান্ত তিনি নিজের নীতিগত অবস্থানের ভিত্তিতেই গ্রহণ করেন।
মরক্কোর বিপক্ষে ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের জয়ের ম্যাচেও বিষয়টি আলোচনায় আসে। ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার পরও তিনি টুর্নামেন্টের অফিসিয়াল অ্যালকোহল স্পনসরের প্রচারণায় অংশ নেননি। ম্যাচসেরার পুরস্কার গ্রহণের সময়ও সাধারণত ব্যবহৃত অ্যালকোহল ব্র্যান্ডের লোগোর পরিবর্তে বিশ্বকাপের অফিসিয়াল ব্র্যান্ডিং এবং “Superior Player of the Match” ডিজাইন প্রদর্শন করা হয়।
এ ধরনের অবস্থান অবশ্য এমবাপের জন্য নতুন নয়। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপেও একই কারণে তিনি আলোচনায় এসেছিলেন। সে সময়ও ব্যক্তিগত নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক মনে হওয়ায় স্পনসর প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ডিং থেকে নিজেকে দূরে রাখেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রয়োজন হলে এ অবস্থান ধরে রাখতে তিনি আর্থিক ক্ষতি বা সম্ভাব্য জরিমানার ঝুঁকিও নিতে প্রস্তুত ছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক ফুটবলে বাণিজ্যিক চুক্তি বড় ভূমিকা রাখলেও কিছু খেলোয়াড় ব্যক্তিগত মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্ববোধকে অগ্রাধিকার দেন। এমবাপের অবস্থানও সেই আলোচনারই একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।