ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮০ বছর
বাংলাদেশের চিকিৎসা শিক্ষা, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসে এক অনন্য নাম ঢাকা মেডিকেল কলেজ। ৮০ বছর পূর্ণ করে প্রতিষ্ঠানটি এবার ৮১তম বছরে পদার্পণ করেছে।
১৯৪৬ সালে যাত্রা শুরু
১০ জুলাই ১৯৪৬ সালে ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ। মাত্র চারটি বিভাগ ও ১০০ শিক্ষার্থী নিয়ে শুরু হওয়া এই প্রতিষ্ঠান আজ দেশের সবচেয়ে বড় চিকিৎসা শিক্ষা ও সেবাকেন্দ্র।
উৎসবের আমেজে ক্যাম্পাস
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ক্যাম্পাসজুড়ে চলছে সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা, তোরণ নির্মাণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও নানা প্রস্তুতি। ১১ জুলাই ‘ডিএমসি ডে’ উদযাপনের আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফর
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এছাড়া সাবেক শিক্ষার্থী ডা. জোবায়েদা রহমানও অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ভাষা আন্দোলনের গৌরব
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে আহত ভাষাসৈনিকদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল ঢাকা মেডিকেলেই। এখানেই নির্মিত হয়েছিল ইতিহাসের প্রথম শহীদ মিনার।
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য ভূমিকা
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা দিয়েছেন, অনেকেই সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। বহু শিক্ষক-চিকিৎসক শহীদ হয়েছেন।
গণআন্দোলনের সাক্ষী
১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন—প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ছিল চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তার অন্যতম কেন্দ্র।
আধুনিক চিকিৎসার পথপ্রদর্শক
বর্তমানে বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট, নিউরোসার্জারি, বার্ন ইউনিটসহ আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ।
প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের আবেগ
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেশে-বিদেশে থাকা অসংখ্য প্রাক্তন শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে ফিরছেন। তাদের কাছে এটি শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং স্মৃতি ও ভালোবাসার পুনর্মিলন।
আগামীর প্রত্যাশা
শিক্ষক, চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা—ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ঢাকা মেডিকেল কলেজকে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা, শিক্ষা ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে উন্নীত করা হবে।