চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ১০ দফা পদক্ষেপ
টানা ভারী বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রাম অঞ্চলে সৃষ্ট বন্যা ও দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী ১০টি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
শুক্রবার (১০ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা ও দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। এতে বহু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ, পুনর্বাসন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় সরকার জরুরি উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
মাহ্দী আমিনের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় দুর্গত এলাকার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জেলা প্রশাসক (ডিসি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদের সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে বিএনপির নেতাকর্মীদেরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
মুখপাত্রের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, চট্টগ্রাম বিভাগের দুর্গত এলাকায় এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। সেখানে ১২ হাজারের বেশি মানুষ নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছেন।
ত্রাণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে জেনারেল রিলিফ (জিআর) কর্মসূচির আওতায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান—এই পাঁচ জেলার জন্য ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা এবং ৩ হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নিরাপদ খাবার পানি, স্বাস্থ্যসেবা, স্যানিটেশন, শিশুখাদ্য এবং নিয়মিত খাবার সরবরাহের ব্যবস্থাও করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দুর্গত এলাকায় গিয়ে ত্রাণ বিতরণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নিচ্ছেন বলেও উল্লেখ করা হয়।
সরকারি বিভিন্ন সংস্থা, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সেনাবাহিনী এবং কোস্টগার্ড সমন্বিতভাবে মাঠপর্যায়ে কাজ করছে বলে দাবি করেন মাহ্দী আমিন। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকতে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সক্রিয় রাখা হয়েছে।
দুর্যোগের কারণে যেসব এলাকায় বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে, সেখানে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের বাড়িতে গিয়ে সমবেদনা জানানো এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমাতে চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথ প্রায় পাঁচ ফুট উঁচু করার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। এ লক্ষ্যে ৪৭ কিলোমিটার রেলপথ উন্নয়ন প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
মাহ্দী আমিন বলেন, সরকারের দ্রুত সিদ্ধান্ত, সমন্বিত কার্যক্রম এবং মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে এই দুর্যোগ মোকাবিলা সম্ভব হবে বলে তারা আশাবাদী। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন।