রাশিয়ার ব্যস্ত সৈকতে ড্রোন বিস্ফোরণ, নিহত ৭; আহত ৪০
রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের কৃষ্ণসাগর উপকূলের একটি জনপ্রিয় সমুদ্রসৈকতে ড্রোন বিস্ফোরণের ঘটনায় তিন শিশুসহ সাতজন নিহত হয়েছেন। সোমবার (৩ আগস্ট) স্থানীয় প্রশাসন হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেছে। এ ঘটনায় অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৭ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার একটি ভিডিও, যা বিবিসি যাচাই করেছে, তাতে দেখা যায় একটি ড্রোন দ্রুতগতিতে সৈকতের দিকে ছুটে এসে বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের সময় সৈকতে বিপুল সংখ্যক মানুষ অবস্থান করছিলেন। অনেকে সমুদ্রের পানিতে ছিলেন, আবার কেউ সৈকতের বালুচরে সময় কাটাচ্ছিলেন। আকস্মিক বিস্ফোরণে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ক্রাসনোদার অঞ্চলের গভর্নর ভেনিয়ামিন কনড্রাতিয়েভ এ হামলার জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করে দাবি করেছেন, এটি বেসামরিক মানুষের ওপর পরিকল্পিত হামলা। তবে এ বিষয়ে ইউক্রেন আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। যুদ্ধের শুরু থেকে উভয় দেশই বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার অভিযোগ একে অপরের বিরুদ্ধে তুললেও তা অস্বীকার করে আসছে।
ড্রোনটির প্রকৃত লক্ষ্য কী ছিল, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ইউক্রেনীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, ইলেকট্রনিক সিগন্যাল জ্যাম হওয়ার কারণে ড্রোনটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সৈকতে পড়ে যায়। অন্যদিকে রাশিয়ার কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বিস্ফোরণের আগে স্থানীয়রা গোলাগুলির শব্দ শুনেছেন। এতে ধারণা করা হচ্ছে, রুশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোনটিকে ভূপাতিত করার চেষ্টা করেছিল।
ঘটনাস্থল আর্খিপো-ওসিপোভকা গ্রামের সৈকত, যা রাশিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় অবকাশযাপন কেন্দ্র। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে বিদেশ ভ্রমণ সীমিত হয়ে যাওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে অনেক রুশ নাগরিক এই এলাকায় ছুটি কাটাতে আসছেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের অভিযোগ, বিস্ফোরণের আগে কোনো সতর্ক সংকেত বা সাইরেন বাজানো হয়নি।
গত এক বছরে ইউক্রেন রাশিয়ার অভ্যন্তরে দূরপাল্লার ড্রোন হামলার পরিমাণ বাড়িয়েছে। কিয়েভের দাবি, এসব হামলার লক্ষ্য মূলত জ্বালানি অবকাঠামো ও বাণিজ্যিক গুদাম, যেগুলো রুশ সামরিক বাহিনীর কাজে ব্যবহৃত হয়। তবে এসব হামলায় মাঝে মধ্যেই বেসামরিক হতাহতের ঘটনাও ঘটছে। গত সপ্তাহান্তে রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে পৃথক হামলায় আটজন নিহত হওয়ার তথ্যও জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
এদিকে মঙ্গলবার ভোরে সেন্ট পিটার্সবার্গের কাছাকাছি একটি গুদামে নতুন করে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের গভর্নর আলেকজান্ডার ড্রোজডেনকো।
অন্যদিকে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়াও ইউক্রেনের বিভিন্ন শহর ও আবাসিক এলাকায় ধারাবাহিকভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে। এতে বহু বেসামরিক নাগরিক নিহত ও আহত হয়েছেন। সর্বশেষ গত শনিবার রাজধানী কিয়েভে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত নয়জন নিহত হন। হামলায় একটি আবাসিক ভবন ধসে পড়ে এবং অনেক মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন। এর আগে ক্রিভি রিহে এক হামলায় একই পরিবারের ১০ সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে।
এ ছাড়া ইউক্রেন সম্প্রতি রাশিয়ার বৃহৎ অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওয়াইল্ডবেরিজ-এর একাধিক গুদামেও হামলা চালিয়েছে। সোমবার রাতে মস্কোর উপকণ্ঠে প্রতিষ্ঠানটির একটি গুদাম লক্ষ্য করে হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইউক্রেনের দাবি, এসব গুদাম থেকে রুশ সেনাবাহিনীর জন্য সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়। যদিও মস্কো সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এসব গুদামে বডি আর্মার ও ড্রোনের যন্ত্রাংশ বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে।