ইরানের সঙ্গে চুক্তির মূল নথি ইসরায়েলকে দেখাতে অস্বীকৃতি যুক্তরাষ্ট্রের
ইরান চুক্তির মূল নথি দেখতে চাইলেও ইসরায়েলকে দেখাচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের সঙ্গে সম্প্রতি সম্পাদিত দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারকের পূর্ণাঙ্গ লিখিত পাঠ ইসরায়েলকে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। চুক্তির মূল নথি দেখার জন্য তেল আবিবের পক্ষ থেকে করা বিশেষ অনুরোধ ওয়াশিংটন সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে।
বুধবার (১৭ জুন) মার্কিন ও ইসরায়েলি বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এ তথ্য জানিয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের চুক্তির সামগ্রিক বিষয়বস্তু সম্পর্কে মৌখিকভাবে অবহিত করা হলেও সমঝোতার আসল লিখিত কপি তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়নি।
গত ১৪ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ডিজিটাল পদ্ধতিতে স্বাক্ষরিত এই সমঝোতার মাধ্যমে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়েও সম্মতি হয়েছে। তবে চুক্তির বিস্তারিত শর্তাবলী এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই সমঝোতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ভ্যান্সের ভাষ্য, নতুন এই কূটনৈতিক উদ্যোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো যুক্তরাষ্ট্র এখন সরাসরি ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালাতে পারছে।
এর আগে ২০১৫ সালে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে ইরানের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি হয়েছিল। পরে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় এসে ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতির অংশ হিসেবে সেই চুক্তি বাতিল করেন এবং তেহরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।
ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তিনি চুক্তিটি অনুমোদনের জন্য মার্কিন কংগ্রেসে পাঠাবেন এবং পরে তা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করবেন। আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে সমঝোতার আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, খুব শিগগিরই তিনি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে চুক্তির প্রতিটি ধারা প্রকাশ করতে পারেন, যাতে গণমাধ্যম বিষয়টি সঠিকভাবে জনগণের কাছে তুলে ধরতে পারে।
তবে ইসরায়েলকে চুক্তির মূল নথি না দেখানোর সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে। অনেকের ধারণা, এই সমঝোতা ইরানের জন্য তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধাজনক হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ কৌশলগত লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জিত হয়নি।
ইসরায়েলের প্রভাবশালী দৈনিক ইয়েদিওথ আহরোনথ ইতোমধ্যেই সমঝোতাটিকে ‘খারাপ চুক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। একইসঙ্গে সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী Avigdor Lieberman দাবি করেছেন, এই সমঝোতা ভবিষ্যতে ইরানকে পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রে পরিণত করতে পারে।
অন্যদিকে, চুক্তি নিয়ে ইসরায়েলের অসন্তোষের ইঙ্গিত পাওয়া মাত্রই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন Donald Trump। জি-৭ সম্মেলনে তিনি মন্তব্য করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ছাড়া ইসরায়েলের টিকে থাকা কঠিন হতো এবং দেশটি অনেক আগেই অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারত।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই