বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান মেহজাবীন-তটিনীদের
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শোবিজ অঙ্গনের কয়েকজন জনপ্রিয় তারকা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে সবাইকে নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী তার ফেসবুক পোস্টে বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য দোয়া কামনা করেন। তিনি বলেন, যারা এই দুর্যোগে প্রিয়জন, ঘরবাড়ি কিংবা জীবিকা হারিয়েছেন, আল্লাহ যেন তাদের ধৈর্য ও শক্তি দান করেন। একই সঙ্গে উদ্ধার ও ত্রাণকাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি সবাইকে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। তার আশা, দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।
চট্টগ্রামের সন্তান অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদ নিজের জেলার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ফেসবুকে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় তিনি লিখেছেন, চট্টগ্রামের বাঁশখালী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চকরিয়া, কক্সবাজার ও বান্দরবানের বহু মানুষ ভয়াবহ দুর্ভোগে রয়েছেন। অথচ বিষয়টি জাতীয়ভাবে যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না বলে তিনি আক্ষেপ করেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, অতীতে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে বন্যা হলে চট্টগ্রামের মানুষ উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিল। তাই এবারও সবাইকে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি এবং সবার জন্য মহান আল্লাহর রহমত কামনা করেন।
অভিনেত্রী তানজিম সাইয়ারা তটিনীও বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে নিজের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, সিলেট, হবিগঞ্জসহ দেশের একাধিক জেলা পানিতে তলিয়ে গেছে। হাজারো পরিবার আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা বাড়ির ছাদে মানবেতর জীবনযাপন করছে। তিনি বলেন, যারা নিরাপদে আছেন, তাদের উচিত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। এক প্যাকেট শুকনো খাবার বা এক বোতল বিশুদ্ধ পানিও অনেক সময় বড় সহায়তা হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি সবাইকে নিরাপদ স্থানে থাকার এবং অন্যদের সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার সময় দেশের শোবিজ ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অনেক শিল্পী একত্রিত হয়ে ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করেছিলেন। তবে চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে এখন পর্যন্ত তেমন কোনো সমন্বিত উদ্যোগের খবর সামনে আসেনি।