বিশ্বকাপ ফাইনালের হতাশা কাটিয়ে আবারও প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে ফিরেছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে ১-০ ব্যবধানে হারের ১৩ দিন পর ইন্টার মায়ামির জার্সিতে মাঠে নামলেও তার প্রত্যাবর্তনের ম্যাচটি জয়ে রাঙাতে পারেনি দল। কলাম্বাস ক্রুর বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করেছে মায়ামি।
নিজেদের মাঠ নু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরুর একাদশে ছিলেন না ৩৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৩তম মিনিটে ড্যানিয়েল পিন্টারের পরিবর্তে মাঠে নামেন তিনি। দীর্ঘ বিরতির পর মাঠে ফিরতেই গ্যালারিতে উপস্থিত সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম।
মাঠে নামার কয়েক মিনিটের মধ্যেই গোল করার দারুণ সুযোগ পেয়ে যান মেসি। লুইস সুয়ারেজের বাড়ানো বল ধরে পেনাল্টি বক্সের ডান দিক থেকে বাঁ পায়ে জোরালো শট নেন তিনি। তবে দর্শকরা গোল উদযাপনের অপেক্ষায় থাকলেও বল অল্পের জন্য পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়। সহজ এই সুযোগটি হাতছাড়া হওয়ায় গ্যালারিতে বিস্ময়ের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য দারুণ ছিল ইন্টার মায়ামির। উরুগুয়ের অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড লুইস সুয়ারেজ প্রথমে নিজেই গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। এরপর নোয়াহ অ্যালেনের গোলেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি। ফলে প্রথমার্ধেই দুই গোলের সুবিধা পেয়ে যায় স্বাগতিকরা।
তবে বিরতির আগে একটি আত্মঘাতী গোলে ম্যাচে ফিরে আসে কলাম্বাস ক্রু। ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার কাসেমিরোর আত্মঘাতী গোল ব্যবধান কমিয়ে দেয়। এরপর ম্যাচের ৮৪তম মিনিটে ব্রাইস মেন্দেজের দুর্দান্ত ফ্রি-কিকে সমতা ফেরায় সফরকারীরা। শেষ পর্যন্ত ২-২ সমতায় শেষ হয় লড়াই।
মেসির সঙ্গে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সতীর্থ রদ্রিগো দে পলও এদিন শুরুর একাদশে খেলেন। বিশ্বকাপের পর বিশ্রামে থাকায় তারা দুজনই ইন্টার মায়ামির আগের দুটি ম্যাচে ছিলেন না। শিকাগো ফায়ার ও সিএফ মন্ট্রিয়লের বিপক্ষে অনুপস্থিত থাকলেও এমএলএস অল-স্টার ম্যাচে না খেলায় সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা থেকে তারা অব্যাহতি পান।
চলতি সপ্তাহেই অনুশীলনে ফেরেন মেসি ও দে পল। মেসির সর্বশেষ ক্লাব ম্যাচ ছিল গত ২৪ মে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের বিপক্ষে। এখন ইন্টার মায়ামির লক্ষ্য লিগস কাপে ভালো শুরু করা। আগামী বুধবার নিজেদের মাঠে অ্যাতলেটিকো দে সান লুইসের বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা। এরপর নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করার লড়াইয়ে মন্টেরে ও লিওঁনের মুখোমুখি হবে মায়ামি।