মিলন সাহেব এত অভিশাপ কই রাখবেন, প্রশ্ন এইচএসসি পরীক্ষার্থীর
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টিপাত, বন্যা ও জলাবদ্ধতার মধ্যেও এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বহু পরীক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডগুলোর পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই ১২ লাখের বেশি পরীক্ষার্থীকে নানা দুর্ভোগ পেরিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়েছে। অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা, যানবাহনের সংকট এবং বন্যা পরিস্থিতির কারণে পরীক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়।
এ পরিস্থিতিতে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের মন্তব্যঘরে অসন্তোষ প্রকাশ করেন অনেক পরীক্ষার্থী ও অভিভাবক। সেখানে কেউ পরীক্ষা স্থগিতের দাবি জানান, আবার কেউ সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন।
চট্টগ্রামের এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী মন্তব্যে লেখেন, “মিলন সাহেব এত অভিশাপ কই রাখবেন?”। একই মন্তব্যে তিনি আরও বলেন, “আজ যত ছাত্র-ছাত্রী আর অভিভাবকের চোখের পানি জায়নামাজ ভিজিয়ে দেবে, সেই কান্নায় যেন আল্লাহর আরশও রহমতে সাড়া দেয়। আল্লাহ, সবার জন্য উত্তম ফয়সালা লিখে দিন।”
কুমিল্লার নাঙ্গলকোট হাসান মেমোরিয়াল কলেজের এক শিক্ষার্থী মন্তব্য করেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগই শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে ভালো উপহার হতে পারে।
আরেক পরীক্ষার্থী ব্যঙ্গ করে লেখেন, “হেলিকপ্টার থেকে নিচের দিকে তাকিয়ে দেখেন স্যার, শিক্ষার্থীরা কীভাবে পরীক্ষা দিয়ে আসলো।”
ঢাকার এক পরীক্ষার্থী মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, “সম্মানের সঙ্গে যদি কোনো গালি থাকতো, সবগুলো আপনাকে দিতাম।” অন্য একজন লেখেন, “সাঁতার জানেন তো? না জানলে কিন্তু শিখতে হবে।”
এ ছাড়া আরও একজন পরীক্ষার্থী মন্তব্য করেন, “সময় ফুরিয়ে আসছে আংকেল।” আরেকজন ঐতিহাসিক একটি উপমা টেনে লেখেন, “রোম যখন পুড়ছিল, নিরো তখন বাঁশি বাজাচ্ছিল।”
উল্লেখ্য, দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যা পরিস্থিতি, পাহাড়ধস এবং টানা বর্ষণের মধ্যেও নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে ব্যাপক আলোচনা চলছে।