যুদ্ধবিরতি চললেও গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত, নিহত ১২
যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ বিভিন্ন স্থানে চালানো হামলায় অন্তত ১২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২০ জন। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এসব হামলা চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরিপন্থী।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) পর্যন্ত সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় আটজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন অন্তত ১৭ জন। একই সঙ্গে ধ্বংসস্তূপের নিচে ও বিভিন্ন স্থানে আরও বহু মানুষ আটকা পড়ে আছেন বলে জানানো হয়। উদ্ধারকর্মীরা নিরাপত্তাজনিত কারণে অনেক এলাকায় পৌঁছাতে না পারায় উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় চিকিৎসা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস শহরের পশ্চিমাঞ্চলে একটি আবাসিক ভবনে ড্রোন হামলায় আরও দুইজন ফিলিস্তিনি নিহত হন।
অন্যদিকে গাজা সিটির পশ্চিমাঞ্চলের আল-রিমাল এলাকায় একটি বেসামরিক গাড়িকে লক্ষ্য করে চালানো পৃথক হামলায় একজন নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন। একই সময়ে মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে আরেকটি ড্রোন হামলায় আরও একজনের প্রাণহানি ঘটে। এতে কয়েকজন আহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের বিভিন্ন ঘটনায় এ পর্যন্ত এক হাজার ৯২ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং তিন হাজার ৫০৭ জন আহত হয়েছেন।
এ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজার ১১৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৬১৫ জনে।
একই সঙ্গে গাজার অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথাও তুলে ধরা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, উপত্যকার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংস হয়ে গেছে অথবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।