বাংলাদেশ নারী ইমার্জিং ক্রিকেট দলের ক্যাম্প থেকে বাদ পড়ার পর আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন নারী ক্রিকেটার ইশমা তানজিম। বিষয়টি তিনি নিজেই নিশ্চিত করেছেন। তার অভিযোগ, শারীরিকভাবে খেলতে সক্ষম থাকা সত্ত্বেও গোড়ালির চোটের অজুহাত দেখিয়ে তাকে ক্যাম্প থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে দলের ভেতরে বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।
দক্ষিণ আফ্রিকা সফরকে সামনে রেখে বাংলাদেশ নারী ইমার্জিং দলের প্রস্তুতি ক্যাম্প বর্তমানে বিকেএসপিতে চলছে। প্রথম দফায় ২৭ জন ক্রিকেটারকে নিয়ে ক্যাম্প শুরু হলেও দ্বিতীয় ধাপে সেই তালিকা কমিয়ে ২১ জন করা হয়। আর সেখানেই জায়গা হারান ইশমা তানজিম।
ইশমার ভাষ্য, তাকে জানানো হয়েছে যে গোড়ালির চোটের কারণে তিনি পরবর্তী ক্যাম্পের জন্য পুরোপুরি উপযুক্ত নন। তবে তিনি দাবি করেন, বর্তমানে তিনি নিজেকে ফিট মনে করেন এবং মাঠে নামার মতো শারীরিক সক্ষমতা তার রয়েছে। তাই এমন সিদ্ধান্তে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।
আত্মহত্যার চেষ্টার পর দ্রুত তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে তিনি বর্তমানে বাসায় রয়েছেন। নিজের অনুভূতির কথা জানাতে গিয়ে ইশমা বলেন, ক্রিকেট তার কাছে শুধুই একটি পেশা নয়, বরং গভীর ভালোবাসার জায়গা। আর্থিক লাভের কথা ভেবে নয়, খেলাটির প্রতি ভালোবাসা থেকেই তিনি এতদিন ক্রিকেট চালিয়ে গেছেন। তাই দল থেকে বাদ পড়ার ঘটনাটি তিনি সহজভাবে মেনে নিতে পারেননি।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় দলে অভিষেক হওয়ার স্মৃতিও তার কাছে অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। নিজের অভিষেকের কোনো ছবিও সংরক্ষণ করতে পারেননি, যা তাকে এখনও কষ্ট দেয়।
জানা গেছে, গত শুক্রবার (৩ জুলাই) আত্মহত্যার চেষ্টার পর রোববার তার জ্ঞান ফিরে আসে। পরে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রেখে তাকে বাসায় পাঠানো হয়। তিনি জানান, এখনও পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত নন। তবে বিসিবির একটি সূত্রের দাবি, ইশমা তানজিমকে ক্যাম্পে না রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে মূলত ফিটনেস-সংক্রান্ত বিবেচনায়।