রাঙামাটিতে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে স্ত্রী
রাঙামাটি সদর উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা উসমান গণির বিরুদ্ধে স্ত্রী-সন্তানকে ঘরে স্থান না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে স্বামীর বিরুদ্ধে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্ত্রী তাহমিনা আক্তার মিতু। মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে রাঙামাটি রিপোর্টার্স ইউনিটির সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন তিনি এ অভিযোগ করেন। এসময় তার শিশু কন্যাও সঙ্গে ছিল। সংবাদ সম্মেলন কৃষি কর্মকর্তা উসমান গণির স্ত্রী তাহমিনা আক্তার বলেন, আমি রাঙামাটি সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার উসমান গণির স্ত্রী। আমাদের দুই সন্তান রয়েছে। গত কোরবানির ঈদের ছুটিতে রাঙামাটির বাসা থেকে দুই সন্তানসহ আমি উসমান গণির বাড়ি অর্থাৎ শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে যাই। কিন্তু ঈদের পরে আমার স্বামী আর আমাকে রাঙামাটির বাসায় ফিরিয়ে আনেননি এবং এখন আমাকে রাঙামাটি বাসায় প্রবেশ করতে দিচ্ছেন না। আমি রাজশাহী থাকাকালীন সময়ে জানতে পেরেছি সে এক মেয়ের পরকীয়ায় লিপ্ত হয়েছে। বিষয়টি তার কাছে জানতে চাওয়ায় নিজেকে আমার কাছে সত্য গোপন করে এবং তাকে বিয়ে করেছে জানায়। এছাড়া এ ঘটনার পর আমার শ্বশুর বাড়ির লোকজন আমাকে মারধর করে ঘর থেকে বের করে দেয়। বর্তমানে আমি দুই সন্তানকে নিরুপায়। দুই শিশু সন্তান ও নিজের ভরণপোষণ পাচ্ছি না।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০১৮ সালে যখন আমার স্বামী বেকার ছিলেন তখন থেকে আমাদের দুজনের সম্পর্ক এবং পরবর্তীতে আমরা বিয়ে করি। বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন সময় যৌতুকের দাবিতে সে আমাকে শারীরিক নির্যাতন করতো এবং বিভিন্ন সময় তাকে আমার বাবা বিভিন্ন অংকের টাকা দিয়েছেন। পরে সে চাকরি পাওয়ার পর রাঙামাটিতে পোস্টিং হওয়ার পর আমাকে এখানে নিয়ে আসেন। কিন্তু কোরবানির ঈদে বাড়ি যাওয়ার এসব ঘটনার শুরু হয়। আমার এখন যাওয়ার মতো কোনো স্থান নেই। আমি বাঁচতে চাই। জানা গেছে, ভুক্তভোগী তাহমিনা আক্তার (মিতু) গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ থানার শ্রীপতিপুরের মনতাছের রহমানের মেয়ে। অভিযুক্ত কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার উসমান গণি রাজশাহী জেলার নওহাটা থানার নামোপাড়া সিন্দুর কুসুম্বী এলাকার কোবাদ আলীর ছেলে। তবে অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার উসমান গণির মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) রাঙামাটি কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে আমাদের কাছে লিখিতভাবে কোনো অভিযোগ দেয়নি।#