বিদেশের মাটিতে পাকিস্তানের টেস্ট দুঃস্বপ্ন যেন কাটছেই না। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে ৯০ রানের পরাজয়ের মধ্য দিয়ে টানা অষ্টম বিদেশ সফরের টেস্টে হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা যোগ হয়েছে তাদের ঝুলিতে। এর আগে বাংলাদেশ সফরেও দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল পাকিস্তান।
তারুবায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে জয়ের জন্য ২১১ রানের লক্ষ্য পেয়েছিল সফরকারীরা। তবে চতুর্থ ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের নিয়ন্ত্রিত পেস আক্রমণের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি পাকিস্তানের ব্যাটাররা। পুরো দল গুটিয়ে যায় মাত্র ১২০ রানে, ফলে ৯০ রানের ব্যবধানে জয় তুলে নেয় স্বাগতিকরা।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে পাকিস্তান। মধ্যাহ্ন বিরতির আগেই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে তারা। এক প্রান্তে বাবর আজম ধৈর্য ধরে লড়াই চালিয়ে গেলেও অন্য প্রান্তে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকায় ম্যাচে ফিরতে পারেনি দল।
এর আগে চতুর্থ দিনের শুরুতে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আগের দিন ৭ উইকেটে ৯৩ রান নিয়ে খেলা শুরু করা স্বাগতিকরা শামার জোসেফ ও কেমার রোচের কার্যকর জুটিতে লিড আরও বাড়িয়ে নেয়। পাকিস্তানের বোলারদের কিছুটা ঢিলেঢালা বোলিংয়ের সুযোগ কাজে লাগিয়ে গুরুত্বপূর্ণ রান যোগ করেন তারা।
আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে শামার জোসেফ কয়েকটি দৃষ্টিনন্দন শট খেলেন। খুররম শাহজাদের এক বলে ছক্কা হাঁকিয়ে তিনি নজর কাড়েন। শেষ পর্যন্ত মোহাম্মদ আলির বলে বোল্ড হওয়ার আগে কেমার রোচকে সঙ্গে নিয়ে ৬১ রানের মূল্যবান জুটি গড়েন। ইনিংসের শেষ দিকে আরও ২৭ রান যোগ করে ১৮১ রানে অলআউট হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পাকিস্তানের হয়ে মোহাম্মদ আব্বাস সর্বোচ্চ পাঁচ উইকেট শিকার করেন।
তবে রান তাড়ায় নেমেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি হারিয়ে ফেলে পাকিস্তান। কেমার রোচ ও জেইডেন সিলস নিখুঁত লাইন-লেন্থে বোলিং করে শুরুতেই চাপ তৈরি করেন। সিলস ইমাম-উল-হক, আজান আওয়াইস ও সালমান আলী আগাকে ফিরিয়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপে বড় ধাক্কা দেন।
প্রথম ইনিংসেও উজ্জ্বল থাকা জাস্টিন গ্রিভস দ্বিতীয় ইনিংসেও দারুণ বোলিং করেন। তিনি মোহাম্মদ রিজওয়ানের স্টাম্প ভেঙে দেন এবং পরে আমের জামালকে এলবিডব্লিউ করে পাকিস্তানের বিপর্যয় আরও গভীর করেন।
আঙুলের চোটের কারণে নিয়মিত ব্যাটিং ক্রমে নামতে পারেননি অধিনায়ক শান মাসুদ। পরে আট নম্বরে নেমে মাত্র ৩ রান করে বিদায় নেন তিনি, যা দলের পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তোলে।
শেষদিকে বাবর আজম ও মোহাম্মদ আব্বাস কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। বাবর নিজের ক্যারিয়ারের ৩২তম টেস্ট অর্ধশতক পূর্ণ করেন এবং অপরাজিত ৫৮ রানে ইনিংস শেষ করেন। অন্যদিকে আব্বাস ২৩ রানের লড়াকু ইনিংস খেললেও তাদের এই প্রচেষ্টা শুধু হারের ব্যবধান কমিয়েছে, ম্যাচের ভাগ্য বদলাতে পারেনি।
চতুর্থ দিনের চা বিরতির পর দ্বিতীয় বলেই আব্বাসকে এলবিডব্লিউ করে নিজের পঞ্চম উইকেট তুলে নেন জেইডেন সিলস। তাতেই ১২০ রানে শেষ হয় পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংস এবং ৯০ রানের জয় নিশ্চিত করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এই পরাজয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ সফরের ব্যর্থতার পর বিদেশের মাটিতে টানা অষ্টম টেস্ট হারল পাকিস্তান।