আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুমে ইংল্যান্ড প্রসঙ্গ, সেমিফাইনালের আগে বাড়ছে উত্তেজনা
মিশরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। ড্রেসিংরুমে ‘মুচাচোস’ গান, ফকল্যান্ড যুদ্ধের স্মৃতি এবং সম্ভাব্য ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা সেমিফাইনাল ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা।
মিশরের বিপক্ষে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের ম্যাচ জিতে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। শেষ আটে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যদের প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড। তবে ফুটবলপ্রেমীদের নজর এখন সম্ভাব্য একটি মহারণের দিকে। কারণ, আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড—দুই দলই নিজেদের কোয়ার্টার ফাইনাল জিততে পারলে সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে।
একই ব্র্যাকেটে থাকা ইংল্যান্ডও শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছে। নরওয়ের বিপক্ষে জয় পেলেই থ্রি লায়ন্সদের সামনে অপেক্ষা করবে আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড ম্যাচের বিজয়ী দল। তাই কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই সম্ভাব্য আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড ম্যাচ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে ফুটবল অঙ্গনে।
মিশরের বিপক্ষে ৩-২ গোলের নাটকীয় জয়ের পর আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুমে উদযাপনের একটি ভিডিও প্রকাশ করে দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। সেখানে খেলোয়াড়দের জনপ্রিয় সমর্থক-সংগীত ‘মুচাচোস’ গাইতে দেখা যায়। ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
গানটির কথায় ‘মালভিনাস’ বা ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের উল্লেখ রয়েছে, যা আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। এই কারণেই অনেক সমর্থক ভিডিওটিকে সম্ভাব্য ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা সেমিফাইনালের আগাম বার্তা হিসেবে দেখছেন।
মিশরের বিপক্ষে ম্যাচে শুরুটা ভালো ছিল না আর্জেন্টিনার। একসময় ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়লেও ৭৯ মিনিটে ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর গোলে ম্যাচে ফেরে দলটি। এরপর মাত্র চার মিনিটের ব্যবধানে লিওনেল মেসি সমতা ফেরান। নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত সময়ে এঞ্জো ফার্নান্দেজের হেড থেকে আসে জয়সূচক গোল, যা আর্জেন্টিনাকে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট এনে দেয়।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা ‘মুচাচোস’ গানটি এবারও নতুন কিছু লিরিক্স যোগ করে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর শুরুতেই আর্জেন্টিনা, ডিয়েগো ম্যারাডোনা, লিওনেল মেসি এবং মালভিনাসের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা দেশটির সমর্থকদের আবেগের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।
ফকল্যান্ড যুদ্ধের ইতিহাসও এই প্রসঙ্গে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ১৯৮২ সালে দক্ষিণ আটলান্টিকের ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে ৭৪ দিনের যুদ্ধ হয়। সেই সংঘর্ষে উভয় দেশের শত শত সেনাসদস্য নিহত হন। যুদ্ধের স্মৃতি এখনও আর্জেন্টিনার জাতীয় পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।
এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে। মেক্সিকো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ডিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল এবং পরে করা ‘শতাব্দীর সেরা গোল’ ফুটবল ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে। সেই ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়ে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জিতেছিল আর্জেন্টিনা।
বর্তমান বিশ্বকাপেও সম্ভাব্য আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড ম্যাচ ঘিরে সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। বুয়েনস এইরেসের ওবেলিস্ক এলাকায় সমর্থকদের বিভিন্ন স্লোগান ও গান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। অনেকেই বিশ্বাস করছেন, দুই দল কোয়ার্টার ফাইনাল জিততে পারলে বিশ্বকাপের আরেকটি স্মরণীয় দ্বৈরথ উপভোগ করতে পারবেন ফুটবলপ্রেমীরা।
অবশ্য সেই ম্যাচের আগে কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে দুই দলের সামনে। আর্জেন্টিনাকে হারাতে হবে সুইজারল্যান্ডকে এবং ইংল্যান্ডকে পরাস্ত করতে হবে নরওয়েকে। এই দুটি ম্যাচের ফলই নির্ধারণ করবে ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফুটবলের অন্যতম ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা আবারও দেখা যাবে কি না।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে এখন পর্যন্ত পাঁচবার মুখোমুখি হয়েছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। ১৯৬২ ও ১৯৬৬ সালে জয় পেয়েছিল ইংল্যান্ড। ১৯৮৬ ও ১৯৯৮ সালে জয়ের হাসি হেসেছিল আর্জেন্টিনা। আর ২০০২ সালের বিশ্বকাপে ডেভিড বেকহ্যামের পেনাল্টি গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় ইংল্যান্ড। এরপর বিশ্বকাপে আর দেখা হয়নি দুই ফুটবল পরাশক্তির।