২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও মিশর। তবে এই লড়াইকে আরও বিশেষ করে তুলেছে দুই বিশ্বতারকা লিওনেল মেসি ও মোহামেদ সালাহর সম্ভাব্য প্রথম বিশ্বকাপ দ্বৈরথ। আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে এই প্রথম একে অপরের বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছেন তারা।
যদিও বিশ্বকাপে এটি তাদের প্রথম সাক্ষাৎ, ক্লাব ফুটবলে আগে দুবার একই মাঠে নেমেছেন এই দুই তারকা। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে প্রথম দেখা হয়েছিল ২০১৫ সালে। সে সময় মেসি ছিলেন বার্সেলোনায় এবং সালাহ খেলতেন রোমার হয়ে। গ্রুপ পর্বের সেই ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র হলেও দুজনের কেউই গোলের দেখা পাননি। ওই মৌসুমের শেষদিকে মেসি, নেইমার ও লুইস সুয়ারেজের নেতৃত্বে বার্সেলোনা শিরোপা জিতেছিল।
দ্বিতীয়বার তাদের মুখোমুখি হওয়া ২০১৯ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালে। প্রথম লেগে ক্যাম্প ন্যুতে বার্সেলোনা ৩-০ গোলের জয় তুলে নেয় এবং মেসি করেন দুটি গোল। তবে দ্বিতীয় লেগে অ্যানফিল্ডে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন করে লিভারপুল। ৪-০ ব্যবধানে জিতে তারা ফাইনালে ওঠে এবং পরে শিরোপাও জিতে নেয়। যদিও ইনজুরির কারণে সেই ম্যাচে সালাহ মাঠে নামতে পারেননি।
এবার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে দুই তারকার সামনাসামনি লড়াই নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ তুঙ্গে। শেষ ষোলোতে ওঠার পথে নিজ নিজ দলের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন দুজনই। কেপ ভার্দের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ের রোমাঞ্চকর ম্যাচে গোল করে আর্জেন্টিনাকে ৩-২ ব্যবধানে জিততে সাহায্য করেন মেসি।
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে গোল না করলেও পুরো ম্যাচজুড়ে দারুণ পারফরম্যান্স দেখান সালাহ। টাইব্রেকারে সফল শট নিয়ে মিশরকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।
এই ম্যাচটি দুই কিংবদন্তির বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের শেষ মুখোমুখি লড়াইও হতে পারে। ৩৯ বছর বয়সী মেসির ২০৩০ বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা খুবই কম বলে মনে করা হচ্ছে। তবে চলতি আসরে তিনি দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন এবং চার ম্যাচে সাত গোল করে নিজের সেরা ফর্মেরই প্রমাণ দিয়েছেন।
অন্যদিকে সম্প্রতি ৩৪ বছরে পা রাখা মোহামেদ সালাহ ভবিষ্যতের বিশ্বকাপে খেলবেন কি না, তা নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা। অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ার পর এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্পষ্ট কোনো মন্তব্য করেননি। সালাহ বলেন, এটি হয়তো অনেক বড় খেলোয়াড়ের শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে। তবে দেশের হয়ে ইতিহাস গড়ার অনুভূতিকে তিনি নিজের জীবনের অন্যতম সেরা মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেন।
পরিসংখ্যানের বিচারে ক্লাব পর্যায়ে মেসির দল একবার জয় পেয়েছে, একবার ম্যাচ ড্র হয়েছে এবং ব্যক্তিগতভাবে সালাহর বিপক্ষে মেসির নামের পাশে রয়েছে দুটি গোল। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে সব হিসাবই নতুন করে শুরু হবে। এখন দেখার অপেক্ষা, এই বহুল প্রতীক্ষিত লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত হাসবে আর্জেন্টিনা, নাকি নতুন ইতিহাস লিখবে মিশর।