উদ্ভাবনী সেবায় স্বীকৃতি পেল আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের পাঁচ প্রতিষ্ঠান
জনসেবাকে আরও দ্রুত, সহজ এবং প্রযুক্তিনির্ভর করতে নেওয়া উদ্ভাবনী উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের আওতাধীন পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে পাঁচটি পৃথক ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ হিসেবে পুরস্কৃত করা হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) সচিবালয়ের অর্থ বিভাগের মাল্টিপারপাস হলে অনুষ্ঠিত ‘ইনোভেশন শোকেসিং ২০২৫-২৬’ অনুষ্ঠানে বিজয়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার উদ্ভাবনী কার্যক্রম মূল্যায়ন করে পাঁচটি বিভাগে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে সেরা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ, প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং গ্রাহকসেবার মান উন্নয়নে বিশেষ অবদানের জন্য এসব প্রতিষ্ঠানকে এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক বিভাগে ‘জনতা-পে (জনতা পেমেন্ট গেটওয়ে)’ চালুর মাধ্যমে নিরাপদ ও সহজ ডিজিটাল লেনদেনের সুবিধা নিশ্চিত করায় জনতা ব্যাংক পিএলসি শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে।
রাষ্ট্র মালিকানাধীন বিশেষায়িত ব্যাংক ক্যাটাগরিতে ‘ই-মাইগ্রেশন লোন প্রসেসিং সার্ভিস (ইএমএলপিএস)’ চালুর জন্য প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক পুরস্কৃত হয়। এই অনলাইনভিত্তিক সেবার মাধ্যমে অভিবাসন ঋণের আবেদন ও অনুমোদন প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও সহজ হয়েছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিভাগে ‘ইনস্যুরেন্স মোবাইল অ্যাপ’ চালুর জন্য বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) পুরস্কার লাভ করে। অ্যাপটির মাধ্যমে বিমাসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য ও প্রয়োজনীয় সেবা সহজেই গ্রহণ করতে পারছেন গ্রাহকরা।
অ-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন (বিএইচবিএফসি) ‘দলিলপত্র ফেরত প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয়করণ’ উদ্যোগের জন্য স্বীকৃতি পায়। এই উদ্যোগের ফলে গ্রাহকদের কাছে প্রয়োজনীয় দলিলপত্র ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও কার্যকর হয়েছে।
অন্যদিকে, অন্যান্য প্রতিষ্ঠান বিভাগে জিআইএসভিত্তিক ‘সুপারভিশন অ্যান্ড মনিটরিং সিস্টেম’ চালুর জন্য পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) পুরস্কৃত হয়। এই প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম ও প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি আরও দক্ষতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের আওতাধীন ২৫টি দপ্তর ও সংস্থার মোট ৫০টি উদ্ভাবনী সেবা ও কার্যক্রম প্রদর্শন করা হয়। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান তাদের দুটি করে উদ্ভাবনী উদ্যোগ প্রদর্শন করে।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের চিফ ইনোভেশন অফিসার ও যুগ্ম-সচিব ফরিদা ইয়াসমিন জানান, আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভাগ ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। তার তথ্য অনুযায়ী, বিভাগের অধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থা এখন পর্যন্ত মোট ৩২৯টি সেবা ডিজিটাল পদ্ধতিতে রূপান্তর করেছে।
তিনি আরও বলেন, প্রতি অর্থবছরের শুরুতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন উদ্ভাবনী ধারণা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করে। বছরের বিভিন্ন সময়ে সেসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের পর এপ্রিল ও মে মাসে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে ‘ইনোভেশন শোকেসিং’-এর আয়োজন করা হয়। পরে সেখান থেকে নির্বাচিত সেরা উদ্যোগগুলো নিয়ে মন্ত্রণালয় পর্যায়ে চূড়ান্ত মূল্যায়ন ও পুরস্কার প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠান শুরুর আগে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার উদ্ভাবনী সেবা ও প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম ঘুরে ঘুরে পরিদর্শন করেন।