বিশ্বকাপের পর্দা ওঠার পর থেকেই ফুটবলপ্রেমীদের উত্তেজনা তুঙ্গে। ইতোমধ্যে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ও সাবেক চ্যাম্পিয়ন জার্মানি নিজেদের শক্তিমত্তার প্রমাণ দিয়েছে। এবার অপেক্ষা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মাঠে নামার। বাংলাদেশ সময় ১৭ জুন ভোরে শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শুরু করবে লিওনেল স্কালোনির দল।
ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ে দাঁড়িয়ে অধিনায়ক লিওনেল মেসির সামনে রয়েছে নতুন ইতিহাস গড়ার সুযোগ। ইতালি ও ব্রাজিলের পর তৃতীয় দল হিসেবে টানা দুই বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়তে চান তিনি। তবে এই অভিযানে আর্জেন্টিনা শুধুমাত্র মেসির ওপর নির্ভরশীল নয়; দলের আরও কয়েকজন তারকা এবং উদীয়মান ফুটবলারের পারফরম্যান্সও হবে গুরুত্বপূর্ণ।
আক্রমণ ও মাঝমাঠের ভরসার নাম
আক্রমণভাগে মেসির অন্যতম প্রধান সঙ্গী হুলিয়ান আলভারেজের দিকে থাকবে বিশেষ নজর। তার গতি, পরিশ্রম এবং গোল করার দক্ষতা প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
মাঝমাঠে রদ্রিগো ডি পল ও এনজো ফার্নান্দেজের ভূমিকা হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খেলার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা, আক্রমণ তৈরি করা এবং প্রয়োজনের সময় রক্ষণে সহায়তা দেওয়ার দায়িত্ব থাকবে তাদের কাঁধে। সমর্থকরাও এই দুই মিডফিল্ডারের কাছ থেকে বড় অবদান আশা করছেন।
অন্যদিকে গোলবারের নিচে আস্থার প্রতীক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তার দুর্দান্ত সেভ আর্জেন্টিনাকে বহুবার বিপদ থেকে রক্ষা করেছে। এবারের বিশ্বকাপেও তার পারফরম্যান্স দলের সাফল্যে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
নতুন তারকাদের উত্থানের অপেক্ষা
মেসির যুগ শেষের পথে এগোলেও আর্জেন্টিনা দলে উঠে আসছে নতুন প্রজন্মের প্রতিভাবান ফুটবলাররা। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন আলেহান্দ্রো গারনাচো। তরুণ এই উইঙ্গারের গতি, ড্রিবলিং ও আক্রমণাত্মক মানসিকতা তাকে এবারের টুর্নামেন্টে সম্ভাব্য নতুন তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।
এছাড়া মাঝমাঠের কয়েকজন তরুণ খেলোয়াড়ও নজরে থাকবেন। কোচ স্কালোনি যদি তাদের যথেষ্ট সুযোগ দেন, তাহলে বিশ্বকাপের মঞ্চেই নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিতে পারেন তারা।
অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয়
আর্জেন্টিনার শিরোপা রক্ষার স্বপ্ন অনেকটাই নির্ভর করবে অভিজ্ঞ ও তরুণ ফুটবলারদের সমন্বয়ের ওপর। মেসির জাদুকরী উপস্থিতির পাশাপাশি আলভারেজ, ডি পল, ফার্নান্দেজ, মার্তিনেজ এবং গারনাচোর মতো খেলোয়াড়দের অবদানই নির্ধারণ করতে পারে দলের সাফল্যের পথ।
তাই ১৭ জুনের ভোর শুধু আরেকটি ম্যাচের সূচনা নয়; এটি কোটি আর্জেন্টিনা সমর্থকের নতুন স্বপ্ন, প্রত্যাশা এবং ইতিহাস গড়ার অভিযানেরও শুরু।