বিউটি রানী পালকে নিয়ে মুখ খুললেন আসিফ আকবর, জানালেন প্রশংসা ও সমর্থন
সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের শিক্ষক বিউটি রানী পালকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে এবার তার পাশে দাঁড়িয়েছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর। তিনি মনে করেন, একজন শিক্ষকের সাংস্কৃতিক চর্চা এবং গানকে কেন্দ্র করে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। একই সঙ্গে সংস্কৃতিমনস্ক এই শিক্ষকের প্রশংসা করে তাকে অভিনন্দনও জানিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি কালজয়ী গান ‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে’–এর সঙ্গে একটি রিল প্রকাশ করে আলোচনায় আসেন বিউটি রানী পাল। শুরুতে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা হলেও পরে তার সমর্থনে এগিয়ে আসেন অনেক শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিক। একই গানে রিল তৈরি করে অনেকে তার প্রতি সংহতিও প্রকাশ করেন।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে আসিফ আকবর শৈশবের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি লেখেন, কুমিল্লা গুলবাগিচা স্কুলের প্রয়াত সাংস্কৃতিক শিক্ষিকা কল্যাণী সেন গুপ্তা তার জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। আবৃত্তি, নাটক, সংগীতের পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করে তিনি তাকে শৃঙ্খলা ও সৃজনশীলতার শিক্ষা দিয়েছিলেন।
আসিফের মতে, শিক্ষকের দায়িত্ব শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং শিক্ষার্থীদের মনন, মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক বিকাশ ঘটানোও তাদের অন্যতম দায়িত্ব। তিনি বলেন, স্বদেশীয় সংস্কৃতি মানুষকে সংযম, সৌন্দর্যবোধ ও মানবিক মূল্যবোধ শেখায়, উগ্রতা নয়।
বিউটি রানী পাল সম্পর্কে তিনি লেখেন, তিনি একজন শিক্ষিত ও সংস্কৃতিমনা শিক্ষক, যিনি আনন্দমুখর পরিবেশে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দেন। নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় একটি গানের সঙ্গে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করাকে তিনি একজন নাগরিকের স্বাভাবিক অধিকার বলেও উল্লেখ করেন।
সামাজিক অস্থিরতার এই সময়ে কাউকে অকারণে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে সমালোচনার প্রবণতারও সমালোচনা করেন আসিফ। তিনি বলেন, শিক্ষাজীবনে লেখাপড়ার পাশাপাশি বিনোদন ও সাংস্কৃতিক চর্চারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, স্কুলে সাংস্কৃতিক শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে সরকারের কিছু নীতিনির্ধারকের আপত্তি রয়েছে, যদিও শিশুদের সৃজনশীল বিকাশের প্রয়োজনীয়তার কথা বিভিন্ন সময় গুরুত্ব পেয়েছে।
পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সমৃদ্ধ শিল্প-সংস্কৃতির ঐতিহ্য ধরে রাখতে নতুন প্রজন্মকে সুস্থ, আনন্দময় ও সৃজনশীল পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ দিতে হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি শিক্ষক বিউটি রানী পালকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান।
উল্লেখ্য, এই বিতর্কে বিউটি রানী পালের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ গানের মূল শিল্পী মেসবা রহমানও। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষকের সাংস্কৃতিক প্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন।