সুবর্ণচরে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা অনুষ্টিত
নিজস্ব প্রতিনিধি, নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজব্বর থানায় জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা (জিবিভি) প্রতিরোধ এবং বাল্যবিবাহ নির্মূলে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এক সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (২৬ জুলাই) বিকালে চরজব্বর থানা পুলিশের সার্বিক আয়োজনে এবং জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ)-এর সহযোগিতায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে থানার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নারী পুলিশ সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, কিশোর-কিশোরী, অভিভাবক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সভায় বক্তারা বলেন, নারী ও শিশুদের প্রতি যেকোনো ধরনের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক সহিংসতার বিরুদ্ধে পুলিশ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। সহিংসতার কোনো ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ থানায় অথবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়।
উক্ত সভায় উপস্থিত হয়ে সচেতনতামূলক বক্তব্য রাখেন- UNFPA এর নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি ডা: সাবরিনা সামরিন হৃদি, চরজব্বর থানার ভারপাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান, নোয়াখালী জেলা কৃষক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন গাজী, স্থানীয় রাজনীতিবিদ আবদুল্যা মিয়া, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক বেলাল হোসেন সুমন।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন থানার নারী পুলিশ সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, কিশোর-কিশোরী, অভিভাবক এবং সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দগণ।
বাল্যবিবাহের ভয়াবহ ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, বাল্যবিবাহ কিশোরীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়, শিক্ষাজীবন ব্যাহত করে এবং পারিবারিক ও সামাজিক নানা সংকট সৃষ্টি করে। তাই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে সচেতন মহল থেকে দাবি উঠে বিয়ে নিবন্ধক (কাজী), স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, ভুয়া জন্মনিবন্ধন বা বয়স গোপন করে যেন কোনোভাবেই বাল্যবিবাহ সম্পন্ন না হয়।
এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সকলে।
এই সময়ে উপস্থিত সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোথাও বাল্যবিবাহের উদ্যোগের খবর পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হবে। পাশাপাশি প্রতিটি ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে যুবসমাজ, নারী নেত্রী এবং স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের সম্পৃক্ত করে সামাজিক নজরদারি জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সহিংসতার শিকার নারী ও শিশুদের আইনি ও মানসিক সহায়তা প্রদানে চরজব্বর থানা সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়।
সভার শেষে “শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা, প্রগতি”—এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা ও বাল্যবিবাহমুক্ত একটি নিরাপদ সমাজ গঠনে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়ে সচেতনতামূলক সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।