সুবর্ণচরে অসহায় নারীদের আরও চারটি দোকান ঘর দখল করে বিক্রি করে দিলো সচিব হেলাল এবং তার সাঙ্গপাঙ্গরা
নিজস্ব প্রতিনিধি,নোয়াখালীঃ
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার ৭নং পূর্ব চরবাটা ইউনিয়নের যোবায়ের বাজার এলাকায় অসহায় নারীদের পুনর্বাসন ও স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে নির্মিত মাছ ও সবজি মার্কেটের জায়গা দখল করে চারটি দোকানঘর বিক্রি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে সচিব আনোয়ার হোসেন হেলাল ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের বিরুদ্ধে। এই প্রভাবশালী ভূমিদস্যু সিন্ডিকেটের অত্যাচারে পথে বসেছে অনেক পরিবার। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং ক্ষোভ বিরাজ করছে সাধারণ মানুষের মাঝে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা কেয়ার (CARE)-এর সহযোগিতায় খাস জমির ওপর অসহায় নারীদের জীবিকা নির্বাহের জন্যে মাছ ও সবজি বিক্রির উদ্দেশ্যে মার্কেটটি নির্মাণ করেন।
কিন্তুু মার্কেটের বিতরে সবজি রাখার জায়গাটিতে চারটি দোকানঘর নির্মাণ করে বিক্রি করা হয়েছে।
অভিযোগ পাওয়া গেছে এ ঘটনার মূলহোতা হিসেবে মূখ্য ভূমিকা পালন করেছেন পূর্ব চরবাটার ইউনিয়নের সাবেক সচিব আনোয়ার হোসেন হেলাল, ইয়াছিন চৌকিদার ও তার ছেলে সোহাগ।
তাদের বিরুদ্ধে অসহায় নারীদের জন্য বরাদ্দকৃত জায়গা অবৈধভাবে দখল ও বিক্রির অভিযোগ সরেজমিনে গিয়েও সত্যতা মিলেছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, দখলকৃত জায়গার প্রকৃত মালিক হলেন খতিজা খাতুন (স্বামী: করির), হোসনারা বেগম (স্বামী: এমরান হোসেন) এবং সবিতা। তাদের প্রাপ্য জায়গা থেকে বঞ্চিত করে অন্যদের কাছে দোকান বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন পরিবার গুলো গণমাধ্যম কর্মীদের নিকট।
অভিযোগ অনুযায়ী সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দোকানগুলো ফারুক (পিতা: রাজা সিদ্দিক), আবদুর রব (পিতা: কুদ্দুস), আবুল বাশার (পিতা: আবদুল মান্নান) ও জামাল (পিতা: রুহুল আমীন) এদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। বর্তমানে অসহায় নারীদের দোকান গুলোতে তারাই ব্যবসা বাণিজ্যে করে যাচ্ছে।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, একাধিকবার স্থানীয়ভাবে প্রতিকার চাইলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে অসহায় নারীরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
ভুক্তভোগীরা এই অবৈধ দখল ও বিক্রির এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দখলকৃত জায়গা ও দোকানঘর উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সুবর্ণচর উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
তবে এ বিষয়ে ভূমিদস্যু অভিযুক্ত ইউপি সচিব আনোয়ার হোসেন হেলাল, ইয়াছিন চৌকিদার ও সোহাগের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বার বার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও সংযোগটি কেটে দেন। এ রিপোর্টটি লেখা পর্যন্ত সিন্ডিকেটের সদস্যরা কোন যোগাযোগ করেনি। যার ফলে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরবর্তী সময় বক্তব্যে পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে জনসম্মুখে।