চাটখিলে ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন এমপি ও ইউএনও’র আশ্বাসে চাটখিলে কৃষকের ধান পুড়িয়ে দেওয়ার কর্মসূচি স্থগিত
নিজস্ব প্রতিনিধি, নোয়াখালীঃ
নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার ক্ষুদ্র কৃষক মোঃ মোরশেদ আলম তার উৎপাদিত ধান সরকারি খাদ্য গুদামে বিক্রি করতে না পেরে প্রতিবাদস্বরূপ ধান পুড়িয়ে দেওয়ার যে কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন, তা আপাতত স্থগিত করেছেন।
কৃষক মোরশেদ আলম জানান, নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন তাকে ব্যক্তিগতভাবে আশ্বস্ত করেছেন যে তার উৎপাদিত ধান সরকারি গুদামে বিক্রির ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমানও তাকে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।
ইউএনও মিজানুর রহমান কৃষককে জানান, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে তার ধান চাটখিল উপজেলা খাদ্য গুদামে সংগ্রহ করা হবে এবং সরকার নির্ধারিত মূল্য পরিশোধ নিশ্চিত করা হবে।
এর আগে, ধান বিক্রি করতে না পেরে চরম হতাশা ও আর্থিক সংকটে পড়ে মোরশেদ আলম ধান পুড়িয়ে দেওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন প্রান্তিক কৃষক চাটখিল উপজেলার বৈকন্ঠপুর ইউনিয়নের হারুনের রশিদের ছেলে মোঃ মোরশেদ আলম।
তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘ পরিশ্রম ও ব্যয় সত্ত্বেও সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে গিয়ে বারবার ব্যর্থ হচ্ছেন এবং এতে তিনি মারাত্মক আর্থিক চাপে পড়েছেন।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ১৮ জুলাই বিকাল ৪টায় বৈকুণ্ঠপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রতিবাদ কর্মসূচি হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধির আশ্বাসের পর তিনি তা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেন।
এদিকে চলতি মৌসুমে চাটখিল উপজেলায় সরকারি গুদামে ধান সরবরাহ করতে গিয়ে কৃষকদের হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। অনেক কৃষকের দাবি, প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় না করে বেপারীদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে, যা নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ বিরাজ করছে।
সম্প্রতি এক জনসভায় এমপি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন এমপি ধান ক্রয়ে অনিয়মের বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
এ বিষয়ে চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, বিষয়টি তার নজরে আসার পর তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ডেকে তাদের বক্তব্য শোনেন। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, মোরশেদ আলমসহ হয়রানির শিকার কৃষকদের ধান সরকারি গুদামে সংগ্রহ করা হবে এবং তাদের উৎপাদিত ধানের সরকার নির্ধারিত মূল্য যথাযথভাবে পরিশোধ নিশ্চিত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ধান সংগ্রহের ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। চাটখিল উপজেলা কৃষি অফিসের তালিকাভুক্ত প্রায় দেড় হাজার ধান চাষি থাকলেও সরকারি গুদামের সক্ষমতা অনুযায়ী এ বছর ৮০০ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী সর্বোচ্চ তিন থেকে চারশ’ কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।