সংসদে বসুন্ধরা গ্রুপের সমালোচনার পর ৪ দিনে হাসনাতকে ঘিরে ৯৯টি কনটেন্ট
জাতীয় সংসদে বসুন্ধরা গ্রুপকে নিয়ে কঠোর সমালোচনামূলক বক্তব্য দেওয়ার পর এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহকে লক্ষ্য করে গ্রুপটির মালিকানাধীন পাঁচটি সংবাদমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে নেতিবাচক কনটেন্ট প্রকাশ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রকাশিত তথ্যের বিশ্লেষণে দেখা যায়, হাসনাত আব্দুল্লাহর সংসদীয় বক্তব্যের পর ২৮ জুন সকাল ৭টা থেকে ১ জুলাই দুপুর ৩টা পর্যন্ত প্রায় ৮০ ঘণ্টার মধ্যে বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, নিউজ২৪, ডেইলি সান এবং বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর ডটকমে তাকে নিয়ে মোট ৯৯টি নেতিবাচক কনটেন্ট প্রকাশিত হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, একই বিষয়কে সংবাদ, ভিডিও, ফটোকার্ড ও বিভিন্ন সংস্করণে একাধিক মাধ্যমে পুনঃপ্রকাশ করা হয়েছে।
সংসদে কী বলেছিলেন হাসনাত?
গত ২৫ জুন ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থপাচার, সম্পদ দখল এবং গণমাধ্যমের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উত্থাপন করেন।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের করা মামলার বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে সরকারের ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের গোপন সমঝোতা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এছাড়া তার দাবি ছিল, বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে কেউ প্রকাশ্যে সমালোচনা করলে তাদের নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যমগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক প্রচারণা চালায়। অতীতে ক্ষমতাসীন দলের পক্ষে ভূমিকা রাখা গণমাধ্যমগুলোর জবাবদিহিও নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
৪ দিনে ৯৯টি কনটেন্ট
তথ্য অনুযায়ী, ২৮ জুন সকাল ৭টা ৪ মিনিটে কালের কণ্ঠের ওয়েবসাইটে “হাসনাত আবদুল্লাহ: সাদা সাদা, কালা কালা” শিরোনামে প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। কয়েক মিনিট পর একই বিষয় নিয়ে একটি ফটোকার্ডও প্রকাশ করা হয়।
পরবর্তী সময়ে ১ জুলাই দুপুর পর্যন্ত পাঁচটি সংবাদমাধ্যমে মোট ৯৯টি কনটেন্ট প্রকাশিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে কালের কণ্ঠে ৭৬টি, ডেইলি সানে ৯টি, বাংলাদেশ প্রতিদিনে ৫টি, বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর ডটকমে ৫টি এবং নিউজ২৪-এ ৪টি কনটেন্ট প্রকাশিত হয়।
কালের কণ্ঠে প্রকাশিত ৭৬টি কনটেন্টের মধ্যে ৩৫টি ভিডিও, ১১টি সংবাদ এবং ৩০টি ফটোকার্ড ছিল।
কোন দিনে কত প্রকাশিত হয়
দিনভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, ২৮ জুন সর্বাধিক ৩৭টি কনটেন্ট প্রকাশিত হয়। এরপর ২৯ জুন ১৮টি, ৩০ জুন ২৭টি এবং ১ জুলাই দুপুর পর্যন্ত আরও ১৭টি কনটেন্ট প্রকাশ করা হয়।
একই বিষয়ের পুনরাবৃত্তি
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রকাশিত অধিকাংশ কনটেন্ট ভিন্ন বিষয়ভিত্তিক নয়; বরং সীমিত কয়েকটি মূল বিষয়কে বিভিন্ন আঙ্গিকে উপস্থাপন করা হয়েছে। সংবাদ, ভিডিও, ফটোকার্ড এবং ইংরেজি সংস্করণসহ বিভিন্ন ফরম্যাটে একই বিষয় পুনঃপ্রকাশ করা হয়েছে।
চিহ্নিত প্রধান বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল “হাসনাত আবদুল্লাহ: সাদা সাদা, কালা কালা”, “মব বিতর্কে হাসনাত আব্দুল্লাহ”, “হাসনাতের দাপটে আক্রান্ত এক দিনমজুর পরিবার”, মো. তারেক রহমানের ভিডিও বক্তব্য, রাশেদ খানের বক্তব্য, “হাসনাত আব্দুল্লাহ সাংবাদিকদের কণ্ঠ রুদ্ধ করে দিয়েছিল” এবং “চেতনাবোধ না থাকলে মানুষ হাসনাতদের প্রত্যাখ্যান করবে” শিরোনামের ভিডিওসহ আরও কয়েকটি বিষয়।
পরবর্তী সময়ে বিএনপি নেতা এম এ আউয়াল খানের বক্তব্য এবং একটি প্রকল্পের ই-টেন্ডার সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগ যুক্ত করে নতুন কনটেন্টও প্রকাশ করা হয়।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।