নবীনগরে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ!
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম.আর. মজিবের বিরুদ্ধে ভূমি হস্তান্তর করের ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিবপুর ইউপির ১ থেকে ৯টি ওয়ার্ডের ৮ জন ইউপি সদস্য একত্রিত হয়ে অভিযুক্ত চেয়ারম্যানে মজিবের বিরুদ্ধে ‘অনাস্থা’ এনে প্রতিকার চেয়ে গতকাল (১৮/৬/২৬) জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত আবেদন করেছেন। অভিযোগকারী সদস্যরা হলেন- ১নং ওয়ার্ড সদস্য ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া, ২নং ওয়ার্ড সদস্য লিটন মিয়া, ৪নং ওয়ার্ড সদস্য সোহেল রানা, ৫নং ওয়ার্ড সদস্য আহসান হাবীব, ৬নং ওয়ার্ড সদস্য হুমায়ুন কবির শাহীন, ৭নং ওয়ার্ড সদস্য মোহাম্মদ বশির, ৮নং ওয়ার্ড সদস্য মোহাম্মদ ইকবাল ইসলাম, ৯নং ওয়ার্ড সদস্য মাসুদ মিয়া এবং ৭,৮,৯ নং ওয়ার্ড (সংরক্ষিত) সদস্য রুকসানা। আবেদনে ৮ ইউপি সদস্য লিখিত ভাবে অভিযোগ করেন-“শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের অনুকূলে ভূমি হস্তান্তর করের ১ শতাংশ হারে প্রদেয় নগদ ৩৫ লাখ টাকার পুরোটা পরিষদের কোনো সদস্যকে না জানিয়ে চেয়ারম্যান মজিব বিভিন্ন ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিজেই আত্মসাৎ করেন। অভিযোগের স্ব-পক্ষে আবেদনের সঙ্গে দাখিল করা বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, নবীনগর শাখার স্টেটমেন্টেও দেখা যায়- বিগত ২০২৩ সালের ১২ জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে চেয়ারম্যান মোট ৯টি ভুয়া প্রকল্পের নামে ৩৫ লাখ টাকার পুরোটাই উত্তোলন করেন।” জেলা প্রশাসকের নিকট দেয়া লিখিত আবেদনে বলা হয়-“এ সব ভুয়া প্রকল্পের কোনো রেজুলেশন ইউনিয়ন পরিষদে সর্বসম্মত ভাবে পাস না করেই চেয়ারম্যান মজিব একক ভাবে ৩৫ লাখ টাকার সমুদয়টা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন।” এ বিষয়ে আবদনকারী স্থানীয় ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য লিটন মিয়া বলেন-“চেয়ারম্যান মজিবের অনিয়ম ও দুর্নীতির খবর লিখে শেষ করা যাবে না৷ শুধু সরকারের ভূমি হস্তান্তর করের প্রদেয় ১ শতাংশের ৩৫ লাখ টাকা কি ভাবে ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে আত্মসাৎ করেছেন, সেটি ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখলেই পরিষ্কার বুঝা যাব।” তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান এম.আর.মুজিব বৃহস্পতিবার রাতে বলেন- তাঁর বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যে ও ষড়যন্ত্র মূলক সাজানো নাটক। সামনে ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে আমার ক্লিন ইমেজকে বিনষ্ট করতেই কিছু কুচক্রী মহল এ সব অপকর্ম করাচ্ছেন৷” তিনি আরো জানান- “৩৫ লাখ টাকা নয়, ভূমি হস্তান্তর করের সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা হয়ত তোলা হয়েছে এবং সেই প্রকল্প গুলোর কাজও ইতোমধ্যেই সম্পন্নও করেছি”। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাকিবুল ইসলাম বলেন-“বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অনাস্থা প্রস্তাবটি আমার নিকট আসে। যথাযথ প্রক্রিয়ায় আগামী কার্য দিবসে (রবিবার) জেলা প্রশাসক স্যারের নিকট পাঠানো হবে। স্যারের নির্দেশক্রমে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ বলেন-“আমি অনাস্থা প্রস্তাবটি এখনো হাতে পাইনি। প্রস্তাবটি হাতে পেলে তদন্তে সত্যতা পেলে অবশ্যই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।