বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে চায় ইসলামাবাদ: ইমরান হায়দার
বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল সাড়ে ১১টায় বিরোধীদলীয় নেতার সংসদীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে পাকিস্তান হাইকমিশনের পলিটিক্যাল কাউন্সেলর কামরান দাংগালও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে ইমরান হায়দার বলেন, ভবিষ্যৎমুখী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে চায় ইসলামাবাদ। তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক ইতিবাচক ধারায় এগিয়ে যাচ্ছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ছে।
পাকিস্তানের হাইকমিশনার বলেন, ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্প্রসারিত হয়েছে। পাশাপাশি সামরিক ও বেসামরিক পর্যায়ে প্রতিনিধিদল ও কর্মকর্তাদের সফর বিনিময়ও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশের শিক্ষাবিদদের একটি প্রতিনিধিদল পাকিস্তান সফর করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই প্রতিনিধিদল পাকিস্তানের শিক্ষা ব্যবস্থা ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। এছাড়া গত মাসে ঢাকায় আয়োজিত শিক্ষা মেলার সফল আয়োজন সম্পর্কেও তিনি বিরোধীদলীয় নেতাকে অবহিত করেন।
ইমরান হায়দার জানান, আগামী পাঁচ বছরে ধাপে ধাপে বাংলাদেশের ৫০০ শিক্ষার্থীকে উচ্চশিক্ষার জন্য বৃত্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে পাকিস্তানের। এরই মধ্যে ৭৪ জন শিক্ষার্থী পাকিস্তানে গমন করেছেন। ভবিষ্যতে দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শিক্ষার্থী ও জ্ঞান বিনিময় কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কাজ চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, চলমান ‘নলেজ করিডোর’ উদ্যোগকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করার বিষয়ে উভয় দেশ আশাবাদী। পাশাপাশি দুই দেশের সংসদ সদস্যদের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি সংসদীয় গ্রুপ গঠনের প্রস্তাবও তুলে ধরেন তিনি।
আলোচনার একপর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা করেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি হাইকমিশনারের মাধ্যমে পাকিস্তান সরকারকে এ বিষয়ে ধন্যবাদ জানান।
বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এমপি এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুরও উপস্থিত ছিলেন।