পদ্মা রেল সেতুর পিলারের পাশ থেকে মাটি অপসারণ, উদ্বিগ্ন স্থানীয় বাসিন্দারা
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার আলীগঞ্জ এলাকায় পদ্মা রেল সেতুর একটি অংশের পিলারের নিচ থেকে মাটি কাটার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে মাটি অপসারণ অব্যাহত থাকলে সেতুর নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এলাকাবাসীর দাবি, অনুমতির কাগজ দেখিয়ে পিলারের আশপাশের মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা মো. রবিউল ইসলাম রবিন বলেন, মাটি কাটার ফলে সেতুর পিলারগুলো ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে এবং যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি দ্রুত এই কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানান। আরেক বাসিন্দা শাহেদ অভিযোগ করেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি এ কাজে জড়িত। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিলেও এখনো মাটি কাটা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে ফতুল্লার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুজ্জামান বলেন, ইউএনওর নির্দেশে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। তিনি জানান, প্রকল্পটির দায়িত্ব সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে থাকলেও মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা দাবি করেছেন, তারা প্রকল্পের নির্মাণকারী চীনা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ওয়ার্ক অর্ডার পেয়েছেন। বিতর্কের কারণে আপাতত কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস.এম ফয়েজ উদ্দিন জানান, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ঘটনাস্থলে তদন্ত করা হয়েছে। মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতরা প্রয়োজনীয় অনুমতির কাগজ দেখিয়েছেন বলে দাবি করেছেন। বিষয়টি যাচাই না হওয়া পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা শিমুল কুমার সাহা বলেন, রেলওয়ে সাধারণত এ ধরনের মাটি কাটার অনুমোদন দেয় না। যদি কোনো অনুমতিপত্র দেখানো হয়ে থাকে, তবে সেটির সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। তবে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের উপপরিচালক আমিনুল করিম জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্যের অনেকটাই বিভ্রান্তিকর। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পিলার নম্বর ৭৬ থেকে ৯০ পর্যন্ত প্রায় ৬০০ মিটার এলাকা আগে জলাশয় ছিল। নির্মাণকাজের সময় সেখানে মাটি ও বালু ফেলে ভরাট করা হয়েছিল এবং বর্তমানে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যে পূর্বের জলাশয় পুনঃখননের কাজ চলছে। তিনি আরও বলেন, প্রকল্পের নকশা ও কাঠামোগত পরিকল্পনা অনুযায়ী পাইল ও পাইল ক্যাপের ওপর ভিত্তি করে ভায়াডাক্ট নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে চলমান খননকাজে সেতুর কোনো ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা নেই। তার দাবি, কিছু মহল নিজেদের স্বার্থে বিষয়টি নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে।